টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাগরিকায় নায়ক হয়ে ওঠার অপেক্ষায় বৃষ্টি

spচট্টগ্রাম, ২৪ জুলাই (সিটিজি টাইমস): হয়তো চতুর্থ দিনেই সাগরিকায় চট্টগ্রাম টেস্টের সাসপেন্স-থ্রিলার নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে তার সবটাই নির্ভর করছে বৃষ্টি ওপর। ক্রিকেটে রেখেঢেকে কথা বলার দরকার তেমন নেই। প্রথম ইনিংসের পর সাগরিকার গল্পটা ক্রিকেটপ্রেমীদের জানা হয়ে গেছে। সেখানে এখন নিশ্চিত ম্যাচের রেজাল্ট। সঙ্গে মোটা দাগে লিখে দিতে হবে; যদি বৃষ্টি এসে বাগড়া না দেয়। ঝুপ-ঝাপ বৃষ্টি ছিল না বুধ-বৃহস্পতিবার। এরপরও এই বৃষ্টি; এই রোদের পণ্ড ২ দিনের ৫০ ওভারের খেলা। বারবার ক্রিকেট ছন্দের পতন। বারবার মাঠ কর্মীদের প্রাণপণ চেষ্টা। সেই বৃষ্টির সঙ্গে আর পারা গেল কই! তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ১৭ রানে। প্রতিপক্ষ নেমে পড়েছে দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ে।

বাংলাদেশের আবাহাওয়াবিদদের পূর্বাভাষ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশার লোকের অভাব নেই। তারা কিন্তু টেস্ট শুরুর আগেই মান্ধাতা আমলের যান্ত্রিক সুবিধার ওপর ভর করে ফলাও করে ঢালাও বৃষ্টির কথা ঘোষণা করেছিল। ৫ দিনের মধ্যে ৪ দিনেই বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছিল তাদের সেকেলে যন্ত্রে। প্রথম দিনে ছিঁটোফোঁটা বৃষ্টিও নেই। দ্বিতীয় তৃতীয় দিনে কিন্তু ঠিকই বৃষ্টি এসেছে। ফলে আর যাই হোক আবাহাওয়াবিদদের নিয়ে হাসাহাসি করার সুযোগ নেই। বরং তাদের কথাই এখন শঙ্কা হয়ে ঘুরে ফিরছে সাগরিকার আকাশ-বাতাসে। বৃষ্টি সরিয়ে ম্যাচটি সম্পন্ন হবে তো- উঠছে সেই প্রশ্নও। হয়তো সেই গৌরবে বুক ফুলিয়ে হাওয়াবিদ স্বশব্দ উচ্চারণে আওয়াজ তুলতে পারেন-‘গবীরের কথা বাসী হলেও ফলে।’ হ্যাঁ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এখন বৃষ্টির ভয়ে মহাকাতর।

সর্বশেষ আপডেট হচ্ছে শুক্রবারও বিনা নিমন্ত্রণে বৃষ্টি অতিথি আসবে সাগরিকায়। ক্রিকেটের নিজস্ব চৌহদ্দির বাইরে সাগরিকায় এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বৃষ্টি। বৃষ্টির অনুকম্পা, না দৃশ্যায়ন; এটা এখন চট্টগ্রাম টেস্টের টানটান উত্তেজনার অণু-গল্প। কারণ ইতোমধ্যে বৃষ্টিই ম্যাচকে স্বল্পবাসে পরিণত করেছে। ফলে তৃতীয় দিন পর্যন্ত টেস্ট নাম্বার ওয়ান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এগিয়ে থাকাও নিষ্ফল আস্ফালনে পরিণত হতে পারে। সেখানে সব ধরণের সিক্যুয়েন্সেই নায়ক বনে যাবে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি হেরে গেছে মুস্তাফিজুরের কাছে। হেরে গেছে সাকিব এবং লিটন দাশের কাছে। তারা কিন্তু ঠিকই নিজে সুরভিত হয়েছেন; ছিটিয়েছেন সৌরভও। বৃষ্টি-অভিশাপে মাটি হতে পারে যেকোনো দলের জয়ের আনন্দ!

কেউ কেউ এখন বৃষ্টিকে অভিশাপ ভেবে পাথর হয়ে গিয়েছেন। বহুকাল বাদে এগিয়ে থাকার স্বাদও এখন বৃষ্টিতে পানসে হওয়ার জোগাড়। বৃষ্টি থেকে শাপমোচনের উপায় খুঁজতে এখন কিন্তু মরিয়া সবাই-ই। বৃষ্টি বাদে পাক্কা আড়াই দিন বাংলাদেশেরই বোলিং-ব্যাটিংয়ের দাপট। হয়তো আরো যুৎসই অবস্থানে বাংলাদেশই থাকতে পারত। কিন্তু বৃষ্টির ফষ্টিনষ্টির প্রলম্বিত গ্যাড়াকলে পড়ে ম্যাচটি এখন দুয়ের মাঝামাঝি। দুই দলই এখন আপারহ্যান্ডে; সমানতালে।

বৃষ্টির উৎপাত সরিয়ে সাগরিকা আবারো ডালি হাতে বাংলাদেশকে কিছু দিতে চায়। তবে সেজন্য সবার আগে প্রয়োজন খটখটে আলোকোজ্জ্বল দিনের আভা। এরপরও পরিশুদ্ধ ক্রিকেট। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ের বেসম্ভব চমক। যেমনটা প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৪৮ রানে আটকে ফেলার পর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ৩২৬ শেষ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ে নেমে তুলে নিয়েছে ৬১ রান বিনা উইকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকার টার্গেট নাকি বৃষ্টিভাসি পরিণতি অপেক্ষা করছে সাগরিকায় তা দেখতে চোখ রাখার বিকল্প নেই।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত