টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তৃতীয় দিন শেষে সম-অবস্থানে দুই দল

চট্টগ্রাম, ২৩ জুলাই (সিটিজি টাইমস): তিন দিনে বৃষ্টির পেটে গেছে প্রায় ৫০ ওভার। ম্যাচের দুই দিনই বাংলাদেশের নৈপুণ্যের সামনে ব্যাকফুটে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিন শেষে অবশ্য ম্যাচে ফিরেছে প্রোটিয়ারা। ম্যাচে দুই দলের অবস্থান এখন প্রায় সমান। এই অবস্থা থেকে দুই দলের জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাড়াও চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্যে ড্রয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিয়েছে।

প্রত্যাশিত লিড হয়তো আসেনি। তারপরও তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস স্থায়ী হয়েছিল প্রায় দুই সেশন। বাংলাদেশের দেয়া ৭৮ রানের লিডটা দৃষ্টিসীমায় নিয়ে এসেছেন দুই প্রোটিয়া ওপেনারই। এখনো ১৭ রানে এগিয়ে আছে টাইগাররা। বৃষ্টির কারণে ২৪ ওভার আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা।

তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৬১ রান। শুক্রবার চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের স্থায়ীত্বকালের ওপরই ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ডিন এলগার ২৮, ভ্যান জাইল ৩৩ রানে ব্যাট করছেন। তাদের ব্যাটিংই ম্যাচে ফিরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

আগের দিনের ৪ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার ম্যাচের তৃতীয় দিন খেলতে নেমে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩২৬ রানে। ৭৮ রানের লিড পেয়েছিল টাইগাররা। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে বাংলাদেশের লিড নেয়ার ঘটনায় এটি পঞ্চম।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দলগত সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল এই চট্টগ্রামেই ২০০৮ সালে করা ২৫৯ রান। তৃতীয় দিনে ৪৯.১ ওভার ব্যাট করে বাকি ছয় উইকেটে ১৪৭ রান যোগ করে মুশফিক বাহিনী।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে বড় স্কোরের আশা হোঁচট খেয়েছিল দিনের ষষ্ঠ ওভারেই। অধিনায়ক মুশফিক স্টেইনের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। তিনি ২৮ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাকিব-লিটনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন তারা। তাদের জুটিতে লিটনের মারা চারে লাঞ্চের আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার ২৪৮ রানের স্কোর টপকে যায় টাইগাররা। ৪ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যায় স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে লাঞ্চের পর খেলা শুরু হতে বিলম্ব হয় আধঘণ্টা।

লাঞ্চের পর মনঃসংযোগে চিড় ধরে সাকিবের। হার্মারের করা ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ বলে আবারও পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ডুমিনির হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। বিচ্ছিন্ন হয় লিটনের সঙ্গে তার ৮২ রানের জুটি। সাকিব ৪৭ রান করেন। উইকেটে এসেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন মোহাম্মদ শহীদ। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই ৩০০ ছাড়ায় বাংলাদেশের স্কোর। হার্মারের এক ওভারে তিন চার ও এক ছয়ে ১৮ রান তুলেন শহীদ। মিড উইকেটে ভ্যান জাইলের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে শহীদ ১৯ বলে ২৫ রানের ক্যামিও উপহার দেন।

ইনিংসের ১১০তম ওভারের প্রথম বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন একপ্রান্ত আগলে খেলা লিটন। হাফ সেঞ্চুরির চার বল পরই অবশ্য আউট হন লিটন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। ৫০ রান করেন তিনি। পরপর দুই ওভারে তাইজুল (৯), মুস্তাফিজকে (৩) আউট করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ করে দেন ডেল স্টেইন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেইন-হার্মার ৩টি করে, ফিল্যান্ডার ২টি এবং ভ্যান জাইল ও এলগার ১টি করে উইকেট নেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত