টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রেমিকার জন্য মন্ত্রী বিএসসির ভাগ্নেকে খুন করলেন সাবেক প্রেমিক

kচট্টগ্রাম, ২৩ জুলাই (সিটিজি টাইমস): ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করার সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা তাসমিন খদিজা সোনিয়া (২৬) ও চাঁদপুরের সাইফুল্লাহ ওরফে রুবেলের এ প্রেমের সম্পর্ক পরিণতির দিকে গড়ায়নি। আট মাস আগে পারিবারিকভাবে সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে ওবায়দুল হকের (৩৬) সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা এবং কোয়ালিটি আইসক্রিমের সাব জিরো ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপক।

ওই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সোনিয়া। তাই সাবেক প্রেমিক রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে ওবায়দুলকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

অস্ত্র কিনতে প্রেমিক রুবেলকে সোনিয়া ৬০ হাজার টাকা দেন। এরপর প্রেমিক রুবেল অস্ত্র কিনে তার তিন ভাগ্নেকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওবায়দুলকে হত্যা করে। আর ঘটনাটি ‘ছিনতাই’ হিসেবে সাজাতে গ্রহণ করে বেশ কিছু কৌশল।

কিন্তু ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত ও সিসিটিভির ফুটেজ ধরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই যুবক মাহমুদুল হাসান মিঠু ও তানভীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল হত্যার নেপথ্যের ঘটনা বের হয়ে আসে।
obaidul

ছবি: বাঁ থেকে নিহত ওবায়দুল, উপরে হত্যাকারী তানভীর ও মিঠু এবং নিচে সোনিয়া

জানা গেছে, গত ২৬ জুন রাতে নিজ কর্মস্থল বসুন্ধরা সিটি থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে সার্কুলার রোডে খুন হন ওবায়দুল। তিন যুবক ওবায়দুলের কাছে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে গুলি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ‘ছিনতাইকারীদের হাতে নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে খুন’।

ইতিমধ্যে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আদ্যোপান্ত জানিয়ে মিঠু ও তানভীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা দু’জন সম্পর্কে রুবেলের ভাগ্নে।

জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী ঘটনার রাতে ওবায়দুল হত্যা মিশনে মিঠু, রুবেল, তানভীর ও তার আরেক ভাগ্নে পাপ্পু উপস্থিত ছিল। তানভীর ও পাপ্পু পলাতক। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দু’জনের জবানবন্দিতে সোনিয়ার নাম আসায় তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বুধবার মধ্যরাতে ঢাকার ডিবির একটি দল সোনিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে। সার্কুলার রোডের ৫৭ নম্বর বাসার দোতলায় স্ত্রী সোনিয়াকে নিয়ে থাকতেন ওবায়দুল।

যেভাবে খুন হন ওবায়দুল: সার্কুলার রোডে ওবায়দুলের বাসার কাছে অবস্থান নেয় রুবেল, তানভীর ও পাপ্পু। সানোয়ারা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো কোয়ালিটি আইসক্রিম।

পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের সপ্তম তলায় কোয়ালিটির একটি আইসক্রিম পার্লার রয়েছে। ২৬ জুন রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন ওবায়দুল। সেখান থেকে বেরিয়ে রিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। বসুন্ধরা সিটি থেকে ওবায়দুলের বের হওয়ার তথ্য মোবাইল ফোনে রুবেল ও তানভীরকে জানায় মিঠু। রিকশা বাসার কাছাকাছি পৌঁছার আগে গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে তাকে গুলি করে তানভীর। এরপর মোটরসাইকেলে তিনজন পালিয়ে যায়। মধ্যরাতে গুরুতর আহত ওবায়দুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন রিকশাচালক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটায় তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর খুনিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে পূর্বপরিচিত দুই বন্ধুর রুমে চলে যায়। এরপর তারা গা ঢাকা দেয়।

বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে পাওয়া সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাতে ওবায়দুল বসুন্ধরা সিটি থেকে বের হওয়ার পরই তাকে নজরে রাখছিল মিঠু। ফোনে তাকে কথা বলতেও দেখা গেছে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর জানিয়েছে, তার মামাকে অস্ত্র কেনার টাকা সরবরাহ করেছেন সোনিয়া। ওবায়দুলকে হত্যার পর ঘটনাটি ছিনতাই সাজিয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। হত্যার পরপর তিন ভাগ্নেকে নতুন মোবাইল সিম কেনার নির্দেশ দেয় রুবেল। কোনো টাকার বিনিময়ে নয়, মামার ভালোবাসার মানুষকে তার কাছে ফিরিয়ে দিতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তারা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত