টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ ৭ পয়েন্টে অর্ধশতাধিক পর্যটকের সলিল সমাধি

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন সৈকতে গোসল করতে নেমে গত আড়াই বছরে অর্ধশতাধিক পর্যটকের সলিল সমাধি ঘটেছে। সেখানে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী আবিদ, নাট্যকার ফারুক জোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক এবং স্থানীয় পর্যটকরাও রয়েছেন।
এদিকে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন সৈকত পর্যন্ত ৭টি পয়েন্টকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এসব স্পটসমুহেই প্রতি বছর পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে জানান কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার। এ জন্য তিনি পর্যটকদের অসচেতনতা ও অননুমোদিত পয়েন্ট ব্যবহারকে দায়ী করছেন।
তিনি বলেন, এবার আমাদের হোটেলে শতভাগ বুকিং হয়েছে। ব্যবসা ভাল চলছে। কক্সবাজারের পর্যটন স্পটসমূহে উপচে পড়া ভিড়। তবে নাট্যকার ফারুক হোসেনের নিখেঁাঁজ হওয়ার ঘটনাটি আমাদের আতঙ্কিত করেছে।
তার মতে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডায়বেটিক, বালিকা মাদ্রাসা, লাবনী, সী-ইন, কলাতলী, ইনানী ও সেন্টমার্টিনের উত্তর দ্বীপ পয়েন্ট আমাদের দৃষ্টিতে ঝুকিপূর্ণ। পয়েন্টগুলোতে গোসল করতে গিয়ে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছে পর্যটকদের। তবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যান্ত নিরাপত্বা কর্মী না থাকায় বিগত সময়ের প্রাণ হানির ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
গত বছরের ১৪ এপ্রিল সেন্টমার্টিন সৈকতে গোসল করতে গিয়ে অথৈ জলে ডুবে মারা যান ঢাকা আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ মেধাবী ছাত্র।
এ বছরের ১৯ জুলাই রবিবার কক্সবাজার পেঁচারদ্বীপ এলাকার ইকো মারমেড রিসোর্ট সংলগ্ন সাগরে গোসলে নেমে হারিয়ে যায় নাট্যকার ফারুক হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলেন বরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণের মেয়ে নাট্য নির্মাতা মৃত্তিকা গুণ।
একই দিন ইনানী সৈকতে সলিল সমাধি ঘটে মো. রুবেল নামে আরেক কিশোরের। রুবেল কক্সবাজার সদরের ইসলামপুরের নাপিতখালী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। ওই দিন সে তার অপর চার বন্ধুর সাথে ঈদ আনন্দ করতে গিয়েছিল। এনিয়ে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় ভ্রমন পিপাসুদের মাঝেও দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক।
ভ্রমনে আসা লোকজন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও পর্যটকরা ছুটে যান হিমছড়ি, ইনানী, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। সেখানে গিয়ে সমুদ্র স্নানে মগ্ন হয়ে পড়েন তারা। স্নানের এক পর্যায়ে সাঁতার না জেনেও অতিরিক্ত সাহস দেখাতে গিয়ে, জোয়ার-ভাটার সময়সীমা না জানা, বন্ধুদের সাথে আনন্দে আত্মহারা হয়ে স্রোতের বিপরীতে চলে যাওয়া এবং চোরা গর্তে পড়ে আটকে যাওয়ার কারণে প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। তবে পর্যটকদের মতে অপর্যাপ্ত লাইফ গার্ড, অনিরাপত্তা, প্রশাসনের নজরদারীর অভাবেই মূলত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সমুদ্রে নিয়োজিত লাইফ গার্ড সদস্যরা বলছেন ভিন্ন কথা।
লাইফ গার্ড কর্মকর্তা ছৈয়দ নুর বলেন, জোয়ার-ভাটার সময় সীমা, লাল পতাকা, সচেতনতা মূলক মাইকিং করা হলেও অনেক সময় পর্যটকরা তা না মেনেই নেমে পড়েন সমুদ্র স্নানে। সমুদ্রের জলে আনন্দ করতে করতে আত্মহারা হয়ে গিয়ে এক সময় সীমানা পেরিয়ে অথৈ জলে চলে যাওয়ার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্ত্বায় আমরা জেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ১৫ স্পটে পুলিশ মোতায়েন করেছি। এসব এলাকায় ২ জন ইন্সপেক্টর ও ৭ জন সাব ইন্সপেক্টরের অধীনে ১৩৮ সদস্যের ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের সাথে ২ জন ট্যুরিষ্ট পুলিশ রয়েছে। সাথে ভ্রাম্যমান টীমও মাঠে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা।
নাট্যকার ফারুক হোসেন’র সলিল সমাধি হওয়া পেঁচারদ্বীপ এলাকায় নিরাপত্ত্বাকর্মী কিংবা কোন ট্যুরিষ্ট পুলিশ না থাকার কারণে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকাটি সম্পূর্ণ প্রইভেট। সেটি কর্তৃপক্ষই দেখা শুনা করেন। এরপরও নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার পর থেকে লাইফগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় সাগরে জাল টেনে তাদের সন্ধান চলছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত