টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ধুম পড়েছে পাঞ্জাবির দোকানে

Eid Bazar-Panjabi
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
শেষ মুহুর্তে পাঞ্জাবির দোকানগুলো জমে ওঠেছে। ধুম পড়েছে কেনাকাটার। ভিড় করছে তরুণরা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্টাইলের পাঞ্জাবি পরার প্রবণতা বেড়েছে। ছোট-বড় সবাই ছুটছেন ঈদের নতুন পোশাক কিনতে। ছোট-বড় সবাই ঈদে নতুন পোশাকে নিজেদের সাজাতে চান। অনেক দোকানে ক্রেতা ভিড়াতে আকর্ষণীয় ছাড়ও দিয়েছে। সব মিলিয়ে রোজার শেষ সময়ে এসে পাঞ্জাবীর দোকানসমূহে ক্রেতার ভিড় বেড়েছে।

শহরের কোরাল রীফ প্লাজা, ফজল মার্কেট, শফিক সেন্টার, এম. রহমান সিটি সেন্টার, জিলানী মার্কেট, হাজেরা শফিং, আপন টাওয়ার, সী-কুইন মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকান ও শপিংমলে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের নজরকাড়া সব আকর্ষণীয় পাঞ্জাবি। এখানে রয়েছে আর্টস সী-ব্লু মোন, ম্যান্স পার্ক, হ্যান্ডি ক্র্যাপ্ট, ম্যানজ মার্টসহ অনেক পাঞ্জাবীর দোকান।

এছাড়া ওয়েল ক্র্যাপ্ট, বাঙালী বাবু, র‌্যাপচার, শৈল্পিক, কেট্স আই, ম্যানজ আই, প্লাস পয়েন্ট, জেন্টেল পার্ক, বুননসহ নামকরা কোম্পানীগুলো বাজারের এনেছে বাহারী আইটেমের পাঞ্জাবী। এসব দোকানে প্রচুর পরিমাণ ক্রেতা লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি বিকিকিনি হচ্ছে।

বিশেষ করে যুবকদের ভিড় খুব বেশী। এসব দোকানে শোভা পাচ্ছে ‘বাজবাংনী ভাইজান’ নামে পাঞ্জাবী। মোনালিসা ফ্যাশনে কাশিশ, খানসহ বিভিন্ন নামে ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবিও রয়েছে। দাম হাকানো হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ৪৬০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কিছু দেকানে ছাড় মুল্যেও পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে।

কথা হয় কোরাল রীফ প্লাজার তৃতীয় তলার বুননের পরিচালক আব্দুর রহমান (মোরশেদ) এর সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, নিজস্ব তৈরী পাঞ্জাবির পাশাপাশি তার দোকানে রয়েছে ইন্ডিয়ান জুট কটনের পাঞ্জাবি। পাওয়া যাচ্ছে পেশওয়ারি কটন ও স্টেপ পাঞ্জাবি। তুলনামুলক কমমূল্যেই তারা পাঞ্জাবী বিক্রি করে থাকেন।

বিক্রেতা নাঈম জানান, ক্রেতা সন্তুষ্টিই তাদের মূল লক্ষ। সর্বোচ্চ সহনীয় মূল্যে তার দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রি করা হয়।

কোরাল রীফ প্লাজার কয়েকটি ফ্লোর ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিগুলোর দাম ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত।

পাঞ্জাবির মধ্যে বর্তমানে জয়শ্রী স্লিম, সেমি লং, স্লিমফিট, কারচুপি, এমব্রয়ডারি স্ক্রিন প্র্রিন্টর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও শেরওয়ানি স্টাইলের পাঞ্জাবিরও কদর রয়েছে। কটন, এন্ডিকটন, এন্ডিসিল্ক, মাইসরি কটন, কাতান ফেব্রিক্সের পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদ বাজারের প্রতিবেদন তৈরী করতে গিয়ে কথা হয় শহরের লালদিঘীর পাড়ের এম. রহমান সিটি সেন্টারে অবস্থিত ‘নক্ষত্র’-এর মালিক সোলাইমানের সাথে।

তিনি বলেন-বন্যার কারণে প্রথম দিকে ব্যবসা কম হয়েছে। এখন অনেকটা বেড়েছে। আমাদের পাঞ্জাবিগুলো অধিকাংশ ইন্ডিয়ান। এ কারণে মান রক্ষা হয়েছে। ক্রেতারাও তুলনামুলক কম দামে কিনতে পারছে। ৫ বছর থেকে সব বয়সীদের পাঞ্জাবী আমাদের সংগ্রহে আছে। কিছু আইটেম ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েছি।

তবে দোকানীরা জানান, লিলেন কাপড়ের ওপর গর্জিয়াস কাজের পাঞ্জাবি বর্তমানে বেশি চলছে। এছাড়াও একটু লং পাঞ্জাবির কদর এবারের ঈদে একটু বেশি দেখা যাচ্ছে।

দোকানীরা আরো জানান, এবারের ঈদে বিক্রি সন্তোষজনক। সামনে যে কয়টা দিন আছে তাতে বিক্রি আরও বেশি হবে। এবার একটু লম্বা পাঞ্জাবি বেশি চলছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে, এবারের ঈদে দেশীয় স্টাইলের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান স্টাইলের কিছু যেমন- মান্নিস, কোশাল, খানসাব, মানজেনা, দরবার প্রভৃতি নামে পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদগাঁও থেকে কারাল রীফ প্লাজায় পাঞ্জাবী কিনতে আসা বজলুর রহমান জানান, তিনিসহ চার বন্ধু মিলে পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন।

তিনি বলেন, এখানে উন্নতমানের পাঞ্জাবি পাওয়া যায় বলেই কিনতে এসেছি। আর দামের বিষয়টা হচ্ছে ফিক্সড। কোনো ঝামেলা নেই। পছন্দ হলে নিয়ে চলে যাব। এটাই সুবিধা।

মতামত