টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এক দিনের ম্যাচে বিশ্ব সেরা বাংলাদেশ, টানা চার সিরিজ জয়

spচট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই (সিটিজি টাইমস): :টানা চতুর্থ সিরিজ জয় টাইগারদের; ক্রিকেটে উপমহাদেশের দুই পরাশক্তি পাক-ভারতকে নিজ দেশের মাটিতে নাস্তানাবুদ করার পর এলো গত বিশ্বকাপের ত্রাস দক্ষিণ আফ্রিকা্। তাদের কাছে টি টোয়েন্টিতে হারের পর কেউ কি কল্পনা করেছিল বাংলাদেশ আরো একটি এক দিনের ম্যাচের সিরিজের শ্রেষ্ঠত্ব তাদেরই?

সবাইকে তাঁক লাগিয়ে দিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে হেরে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাড়ালো টাইগাররা। পর পর দুটি জয়।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শিরোপা নির্ধারনি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।

আর সেই টার্গেট বাংলার বাঘেরা টপকে যান …. ওভার হাতে রেখেই। আসে … উইকেটের জয়।

জয় ছিনিয়ে আনতে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করছেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। সৌম্য একটুর জন্য ব্যাক্তিগত শতক মিস করেন। তেরটি চার আর একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস ইতি টানতে হয় ৯০ রানেই।

তবে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন তামিম ইকবাল, নিজের মাটিতে দেখে বুঝেই খেলছিলেন তিনি শুরু থেকে। ব্যাক্তিগত অর্ধশতক তো করেনই শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে জয় নিশ্চিত করেন এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে খেলার শুরুতেই মুস্তাফিজ এর বলে ইনিংসের শুরুতেই বোল্ড হয়ে যান কুইন্টন ডি কক। এরপর আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান, ফিরে যান, ফাফ দু প্লেসি। তার বলে বলে সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন দু প্লেসি। টানা পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলের শেষ ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। দ্বাদশ ওভারে তার বলে সাব্বির রহমানের হাতে একবার জীবন পান হাশিম আমলা।

তবে পরের ওভারেই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে ফেরান সাকিব। আমলাকে আউট করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে দুইশ’ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। একই সাথে ওয়ানডের ইতিহাতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে চার হাজার রান ও দুইশ’ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। এই অফস্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে যান রাইলি রুশো। তার বিদায়ে অতিথিদের স্কোর দাঁড়ায় ৫০/৪।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ডেভিড মিলার-জেপি দুমিনি। মিলার-দুমিনির বিপজ্জনক হয়ে উঠা ৬৩ রানের জুটি ভাঙার কৃতিত্ব মাশরাফির। তার বলে পয়েন্টে মিলারের দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দি করা সাব্বিরের অবদানও কম নয়। ‘কিলার’ মিলার ওয়ানডেতে মাশরাফির দুইশতম শিকার। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন আগের দুই ওয়ানডেতে কোনো উইকেট না পাওয়া সাকিব। তার বলে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅনে সাব্বিরের ভালো ক্যাচে পরিণত হন ফারহান বেহারদিন।

৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে সাকিবই বাংলাদেশের সেরা বোলার। দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো এবারও দারুণ এক কাটারে কাগিসো রাবাদাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে কাইল অ্যাবটকে বোল্ড করে নিজের প্রথম উইকেট নেন পেসার রুবেল হোসেন। শেষ বলে সর্বোচ্চ ৫১ রান করা জেপি দুমিনিকেও আউট করেন তিনি। উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২৩ ওভার পর বৃষ্টি নামলে প্রায় তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। পরে খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪০ ওভারে।

মতামত