টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাড়ির টানে ছুটছে সবাই, ফাঁকা হচ্ছে বন্দরনগরী

eচট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: ঈদের অঘোষিত ছুটি শুরু হয়ে গেছে মঙ্গলবার থেকেই। আজ বুধবার থেকে পুরোপুরি ফাঁকা হতে শুরু করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত চট্টগ্রামের কমপক্ষে ২৫ লাখ মানুষ ঈদ উদযাপনে গ্রামমুখী। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে শহর ছাড়তে শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগরের অর্ধেক মানুষ। গ্রামমুখী মানুষের চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই বাস-ট্রেন স্টেশনগুলোতে। ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রিও ইতিমধ্যেই শেষ করেছে সবগুলো পরিবহণ সংস্থা। বাস-ট্রেনের টিকিট নেই। তবু বাড়ি ফেরার সর্বাত্মক চেষ্টা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক দিন মাত্র অফিস-আদালত খোলা থাকবে। এরপর শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যোগ হবে ঈদের ছুটি। তবে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ঈদের অঘোষিত ছুটি শুরু হয়েছে। এতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বৃহস্পতিবার এক দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ম্যানেজ করে হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে গতকালই যাত্রা করেছে বাড়ির পথে। আবার কেউ কেউ আজ সকালে শুরু করেছে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ম্যানেজ করতে পেরেছেন এমন পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী মঙ্গলবার বাড়ি ফিরেছেন। সমানভাবে যাচ্ছেন আজও। কেউ পরিবার-পরিজনের বিশাল বহর নিয়ে, কেউবা একাকী।

এদিকে, অনেক আগেই নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজান ও ঈদের ছুটি থাকায় অনেকে পরিবার পরিজনকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। গতকাল এবং আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস কাউন্টারগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। ট্রেন স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই। শত শত যাত্রীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেন এবং বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলী, সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। এ ভিড় আগামীকাল বৃহস্পতিবারে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের প্রথম দিনের যাত্রা সম্পন্ন হলেও ক্রমাগত যাত্রীর চাপ বাড়বে। বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেনগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। তাই ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে ট্রেনের সময়সূচির বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও- অধিকাংশ ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে রেলের পাশাপাশি সড়কপথেও যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ লক্ষ করা গেছে। চট্টগ্রামের সবগুলো বাস কাউন্টারে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব বাসের সব আসনের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাস কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারীরা। মঙ্গলবার সারা দিনে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ চট্টগ্রাম নগরী ছেড়েছে বলে বাস কাউন্টারগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

মতামত