টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ব্যাটারির রিকশাচালকদের ঈদের আনন্দ নেই

riksaচট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  আবদুল হাকিম মোল্লা। বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি রিকশা চালিয়েই তার জীবিকা চলেছে দীর্ঘদিন। চার পুত্রকন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন নগরীর আরেফিন নগর ছিন্নমূল কলোনিতে দুই হাজার টাকার ভাড়া বাসায়।

বয়সের কারণে প্যাডেল চালিত রিকশা চালানোর সামর্থ্য নেই। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশাতেই তার জীবিকা। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে বন্ধ হয়ে যায় এই রিকশা। এর পর থেকেই বেকার হাকিম মোল্লা। তার আয়ের পথ বন্ধ। ঈদের কোনো আনন্দ নেই হাকিম মোল্লার পরিবারে।

হাকিম মোল্লার মতোই চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকের পরিবারে এবার ঈদের আনন্দ নেই।

আরেফিন নগরের একটি রিকশার গ্যারেজে কথা হয় হাকিম মোল্লার সঙ্গে। ক্ষোভের সঙ্গে এই বৃদ্ধ রিকশাচালক বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে ধনীরা দরিদ্রদের সহায়তা করে। যাদের ঈদ করার সামর্থ্য নেই তাদের সহায়তা করে শহরের মানুষ। কিন্তু এবার রমজানের শুরুতেই পুলিশ আমাদের জীবিকা কেড়ে নিয়েছে।’

একই গ্যারেজের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক নুরুন্নবী বলেন, ‘শহরে কত রকমের বেআইনি কাজ চলে। সেসব কেউ চোখে দেখে না। আমরা পরিশ্রম করে রিকশা চালিয়ে দুটো টাকা আয় করে সৎ পথে সংসার চালাই। এটাই আমাদের অপরাধ। ব্যাটারির রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে চাল কিনে দুবেলা ভাত খাওয়ার টাকা জোগাড় করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের ঈদের নতুন জামা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য হবে না। আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে পুলিশ।’

চট্টগ্রাম ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক সমিতির নেতা আবদুল কাদের মজুমদার বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারির রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় রমজানের শুরুতেই। এর ফলে নগরীতে প্রায় ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক বেকার হয়ে গেছেন। তাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। রিকশাচালকদের সামর্থ্য নেই তাদের সন্তানকে একটি নতুন জামা কিনে দেওয়ার।’

চট্টগ্রামে ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়া এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক নাছির উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের যে বিষয়টি বেশ গোলমেলে ঠেকে, তা হলো ব্যাটারি রিকশার প্রতি অতিমাত্রায় নিয়মতান্ত্রিক হওয়া। অনেকে বলেন, বৈধ-অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার স্বার্থরক্ষার জন্যই ব্যাটারি রিকশার প্রতি পুলিশের এই নিষ্ঠুরতা।’

নাছির উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমি মানি এই গাড়ি অবৈধ, কিন্তু চার বছর ধরে হাজার হাজার রিকশা যখন রাস্তায় নেমেছে তখন প্রশাসন কোথায় ছিল? ৭০ হাজার ব্যাটারির রিকশা নগরীর গণপরিবহণের সংকট অনেকটাই পূরণ করেছিল, উচ্চবিত্ত ছাড়া সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছিল এটি। কিন্তু কিছুদিন পরপর এই রিকশা বন্ধ করে দেওয়া আবার চালু হওয়াটা তুঘলকি কাণ্ড বলে মনে হয়। এই দেশে অনেক কিছুই আইনি বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও টিকে আছে। কাদের আশীর্বাদে টিকে আছে সবাই জানে। তাহলে শুধু ব্যাটারি রিকশার ওপর কেন খড়্গ? এই পবিত্র রমজানে ব্যাটারির রিকশা বন্ধ করার আগে পুলিশ কমিশনার সাহেব একবারও কি ভেবেছেন নগরীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চলবে কীভাবে? বিকল্প ব্যবস্থা কী? আর ৭০ হাজার রিকশাচালকের রুটি-রুজি বন্ধ করার আগে মানবিক দিকটা বিবেচনা করা উচিত ছিল নাকি? দুদিন পরেই ঈদ, এবার এই ব্যাটারির রিকশাচালকদের ঘরে ঈদ হবে কি? তাদের সন্তানেরা একটা নতুন জামা পাবে তো?’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত