টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে ১৪৪ ধারা

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

144চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: সম্প্রতি মানিকছড়িতে গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত ভূমি উপজাতি কর্তৃক জবর-দখলকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সে সময়ে ইউপিডিএফ ওই ভূমি উপজাতিদের দাবী করে শান্ত পরিবেশে অশান্তি পায়ঁতারা বুনছে বলে অভিযোগ করেছেন বাঙ্গালীরা! এ নিয়ে বিতর্কিত ভূমিতে স্থিতবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। তারপরও ইউপিডিএফ কতিপয় উপজাতি ভূমি রক্ষা কমিটির পক্ষে মাঠে নেমেছে। ফলে আজ বুধবার মানিকছড়িতে সমাবেশ আহব্বান করেছে ইউপিডিএফ। অন্যদিকে জেএসএস তাদের নেতা হত্যার মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে একই সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়াতে প্রশাসন সকাল ৬টা থেকে চট্রগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের মানিকছড়ির কয়েকটি অংশে ১৪৪ জারি করে মাইকিং করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গচ্ছাবিলস্থ এলাকার পূর্বপাশের বক্রিপাড়া,মনাধনপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ১৯৮৩-৮৪ সালে বসবাসরত ২ শতাধিক বাঙ্গালী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছে। ফলে সম্প্রতি ওই পরিত্যক্ত ভূমি উপজাতিরা তাদের দাবী করে তাতে ধর্মীয় নিশানা উড়িয়ে মন্দির নির্মাণের নামে জায়খা জবর-দখল শুরু করলে এখানে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সরজমিনে একাধিকবার পরিদর্শন করে ভূমির রের্কড যাচাই-বাছাই পূর্বক মভূমির মালিকানা নির্ধারণ করার উদ্যোগ নেয় এবং এই সময়কালে বির্তকিত ভূমিতে কেউ যাতে কোন স্থাপনা কিংবা আকার-আকৃতি পরির্তন-পরিবর্ধন করতে না পারে সেজন্য ভূমিতে স্থিতবস্থা জারি করেন। কিন্তু প্রশাসনের নিদের্শ বাঙ্গালীরা মেনে চললেও উপজাতিরা বার বার তা লঙ্গন করছে বলে বাঙ্গালীরা অভিযোগ করে আসছেন। এ নিয়ে যখন উভয়ের মাঝে উত্তেজনা চলছিল ঠিক সে সময়ে ইউপিডিএফ উপজাতি ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে আজ ১৫ জুলাই মানিকছড়িতে অঘোষিত সমাবেশ আহব্বান করে। এ খবর পেয়ে একই সময়ে জেএসএস উপজেলা কমিটির তাদের প্রয়াত নেতা মংসাজাই মারমা ওরফে জাপান ও কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিংসামং চৌধুরী হত্যা মামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আহব্বান করলে এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায়। ফলে উপজেলা প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ৬ টা থেকে পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত চট্রগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ধর্মঘর, জামতলা,গবামারা,হাতিমুড়া, গচ্ছাবিলসহ কয়েকটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। উপজেলা নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেড ও ইউএনও যুথিকা সরকার গতরাতে এলাকায় মাইকিং করিয়ে তা ঘোষনা দেন। জেএসএস নেতা বাদল কুমার ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত পত্রে কর্মসূচী নিশ্চিত করা হলেও ইউপিডিএফ এ ব্যাপারে কিছুই বলছে না। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনী (গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে) ইউপিডিএফে’র কর্মসূচী নিশ্চিত করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত ইউএনও যুথিকা সরকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, এলাকার আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। কেউ তা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত