টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশে ঈদ করতে এসে চীরতরে চলে গেলে না ফেরার দেশে

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি 

unnamedচট্টগ্রাম, ১১ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নাজিরহাটের প্রবাসী যুবক কাইছার হামিদ(২৮)। আজ ( শনিবার) দুপুর একটায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া মাদ্রাসা এলাকায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী কাইছার নিহত হন। তিনি উপজেলার নাজিরহাটবাজার সংলগ্ন দৌলতপুর কুতুব শাহ বাড়ির মোহাম্মদ দুলালের একমাত্র ছেলে। এ ঘটনায় মাইজভান্ডার এলাকার জয়নাল নামক এক যুবক আহত হন। জয়নাল ছিলেন মোটরসাইকেলের চালকের আসনে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জয়নাল মুঠোফোনে বলেন, ‘শনিবার সাড়ে বারোটার দিকে আমি আর আমার বন্ধু কাইছার আমার ব্যবহৃত বাইক (টিভিএস এফাছি) নিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে উদ্দেশ্যে নাজিরহাট থেকে রাওনা হই বন্দরে আটকে থাকা কিছু মালামাল নিয়ে আসতে। প্রতিমধ্যে চারিয়া এলাকায় গেলে পেছন থেকে একটি সিএনজি ঘাড়ি ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে সিএনজি চালককে বকাঝকা করতে তাকে পেছনে বসা কাইছার। এ সময় সড়ক জ্যাম থাকায় গাড়ির গতি খুব কম ছিল। হঠাৎ হাইড্রলিক ব্রেক ধরতে গিয়ে আমাদের বাইকটি পড়ে যায়। গাড়ির সাথে একটি সিএনজির সাথে ধাক্কা লাগে, মূহূর্তে আমি ও কাইছার পড়ে যায়। উঠে দেখি কাইছার সড়কের মাঝে পড়ে আছে। সে মাথায় খুব আঘাতপ্রাপ্ত হয়, মুখ দিয়ে প্রচন্ড রক্ত বের হচ্ছিল তার। সাথে সাথে আমাকে ও তাকে স্থানীয় লোকজন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
জয়নাল প্রত্যক্ষদর্শীরা উদ্বৃতি দিয়ে আরো বলেন, কাইছার সড়কে পতিত হওয়ার পর পর পেছন দিক থেকে একটি সাদা জিপ গাড়ী (সরকারী কর্মকর্তার গাড়ি) তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে সে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এদিকে, নাজিরহাটে নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো প্রলাপ করছেন নিহতের বাবা-মা। বৃদ্ধ বাবা মো. দুলাল বলেন, ‘মাত্র দুই দিন পূর্বে দুবাই থেকে দেশে এসেছিল আমার একমাত্র বুকের ধন। খুব খুশি হয়ে দেশে ফিরেছিল এবার ঈদ সবার সাথে ঈদ করতে পারবে বলে।

পরিবারে তিনবোনের এক ভাই ছিলেন কাইছার। দেড় বছর পূর্বে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। মাত্র আটমাস বয়সী পুত্র সন্তান মিনহা ফেল ফেল করে থাকিয়ে দেখছে সবার কান্নামাখা মুখ। তার এখনো বুঝার বয়সটুকু হয়ে উঠেনি; সে যে বাবা ডাকার আগেই হারিয়ে ফেলেছে বাবা নামক ছায়া বটবৃক্ষকে।

মতামত