টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

উড়ে গেল ‘পাখি’ জুড়ে বসল ‘কিরণমালা’

Kironmala-2_1

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

ভারতীয় বাংলা চ্যানেল স্টার জলসায় প্রচারিত বোঝে না সে বোঝে না সিরিয়ালের নায়িকা পাখির পরনের পাখি ড্রেস ২০১৪ সালে দখল করে রেখেছিল পুরো ঈদবাজার। এ বছর এসেছে ‘কিরণমালা’ ক্রেজ। ‘কিরণমালা’ জেলা সদরসহ গ্রামের মার্কেট গুলোতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। এসব পোষাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ক্রেতারা। তবে কিরণমালার নামে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

গতবার পাখি ড্রেসের জন্য বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে আবার আত্মহত্যাও করেছেন কয়েক নারী। এবারও কি কিরণমালা ড্রেসের জন্য প্রাণহানি ঘটবে? এটি জিজ্ঞাসা সাধারণ মানুষের। বিত্তবান তরুণীদের কথা মাথায় রেখে অভিজাত বিপণি বিতানগুলোর বেশিরভাগ অংশ জুড়ে এ ধরনের পোশাক শোভা পাচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে শহরের মার্কেটগুলোতে। পরিবারের সবার জন্য পছন্দমতো কেনা-কাটা করতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে চষে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। এ সুযোগে বিক্রেতারাও হাঁকছেন আকাশ ছোঁয়া দাম। তবে গত দু’দিন বৈরী অবহাওয়ার কারণে মার্কেগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম লক্ষ্য করা গেছে।

শহরের পান বাজার সড়কস্থ মিনা বাজারের মালিক রায়হান জানান, এবারের ঈদ বাজারে নারীদের জন্য বাহারি আকর্ষণীয় পোশাকের সম্ভার রয়েছে। বিশেষ করে কিক কিরণমালা, কিরণ মালা-১, কিরণমালা-২, ওমটেক্স, বিনা, বিপুল-৩, এক্সপেক্টর, দারিদ্র-১, দারিদ্র-২, দেশী টিসু ও পাকিস্তানী কটন হিট করেছে। তাছাড়া ক্রেতাদের মন কাড়ানো বিপুল পরিমাণে থ্রি-পিস, শাড়ী, পাখি শাড়ী, ইনকুচি, তেরেলিনা ও কাথান শাড়ীও দোকানে মজুদ রয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতীয় বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিয়ালের বদৌলতে দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ নেই। এ কারণেই সিরিয়াল দেখে শুধু নামের আকর্ষণে তরুণ-তরুণীরা ভারতে তৈরি পোশাক বেশি কিনছেন।

বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্রে মেয়েদের ‘কিরণমালা’ নামের পোশাক বিক্রি হচ্ছে দেদার। দামেও রয়েছে হেরফের। মাঝারি থেকে বড় মেয়েদের জন্য তৈরি এ পোশাকের দাম বিক্রেতারা হাঁকছেন ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফুটপাতেও মিলছে কিরণমালা। দাম নেয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

ভারতীয় সিরিয়ালে প্রভাবিত হয়ে এ দেশের তরুণীই শুধু নয়, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঝুঁকছে ভারতীয় পোশাকের দিকে। যতই দিন যাচ্ছে ততই কিরণমালার দাম বাড়ছে। দোকানিদের মতে এটির দাম ৪০ হাজারে ঠেকবে।

বিভিন্ন বিপনী বিতন ঘুরে দেখা গেছে, প্লাজ্জো ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার, শারারা ২০ হাজার থেকে ২৩ হাজার, খারারা ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার, বুম চুরিদ্বার ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার, পিকে ১৭ হাজার থেকে ২৬ হাজার, পরিধি ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। আরও রয়েছে জলপরী, রাই কিশোরী, আনারকলি, আশিকি, মাসাককলি, সানি, কোয়েল, চিকনি চামেলি, বিপাশা, অর্চনা, অমিত, ডিসকো চালি, জীবিকা, রিভা, বীরা, ছানছান, ঝিলমিল, পাঙ্খুরি, আশিকি টু, বুগিউগি, টুপুরসহ নানা বাহারি নামের বিভিন্ন পোশাক। ঈদবাজারে শাড়ির ক্ষেত্রেও ভারতের দাপট বজায় আছে। শাড়িতে ভারতীয় নায়িকা ও সিনেমার হাওয়া জোরদার।

এর মধ্যে রয়েছে রেশম কা জরি, ঝিলিক, রাধিকা, ওহ লায়লা, তিসমার খান, জারা জারা, আয়শা টাকিয়া, দিল দো কলি, বধূয়া ইত্যাদি নামের ভারতীয় শাড়ির মধ্যে পাথর আর চুমকির কারুকাজ করা গাঢ় রঙের রাসলীলা শাড়িতে বাজারের দোকানগুলো ভরে গেছে। ভারতীয় এসব শাড়ির দাম ১৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। এ.ছালাম মার্কেটের পিএমখালী বস্ত্র বিতানে রয়েছে ৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের কিরণমালা পোশাক।

বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, ২০ হাজার টাকা দামের কিরণমালা প্রতিদিন কমপক্ষে তিনটি বিক্রি হয়। শার্ট-প্যান্টও ভালো বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে মেয়েদের গাউন। একেবারে গোড়ালি ছুঁই ছুঁই গাউন চলছে ভালো। দাম ১৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।

শহরের সুপার মার্কেটের এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদ বাজার এখনো জমে উঠেনি। এরপরও কিরণমালা পোষাকটি ক্রেতাদের আলোচনায় রয়েছে। ঈদ কেন্দ্র করে ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ওই দেশের ব্যবসায়ীরা পোশাকের নাম দিচ্ছেন।

অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যের সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই টিভি সিরিয়ালের নামকরণ ও বিভিন্ন চরিত্রের অভিনেত্রীদের পোশাক-পরিচ্ছদ দেয়া হয়। শহরের ফজল মার্কেট, সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, সী কুইন মার্কেট, কবির মার্কেট, হকার মার্কেট, সুপার মার্কেট, ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স, এ ছালাম মার্কেট, রেজা কমপ্লেক্স, আপন টাওয়ার, হাজি শপিং কমপ্লেক্স, শর্মা কমপ্লেক্স, রশীদ কমপ্লেক্স, আলমাছ শপিং কমপ্লেক্স, গুলজার শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে কিরণমালা মজুদ করা হয়েছে। এমন কোনো দোকান নেই যে দোকানে এই পোশাকটি খুঁজে পাওয়া যায়না।

প্রতিটি দোকানের দর্শনীয় স্থানেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে পোষাকটি। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের পোষাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিপনি বিতানগুলো। দামও হাকা হচ্ছে বেশ। ক্রেতারা বলছেন, তারা ঘুরে ঘুরে বাজার যাচাই করছেন। তারপর পছন্দের পোশাক কিনছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও তা সাধ্যের বাইরে নয়। বেশ ভিড় দেখা গেল পোশাক, জুতা, খেলনা এবং বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও।

এবার ছেলেদের জন্য ১ থেকে ১৫ হাজার টাকায় রাজশাহী সিল্ক পাঞ্জাবি, ইন্ডিয়ান কিউজি পাঞ্জাবি, খদ্দর পাঞ্জাবি, সুতি পাঞ্জাবি, এনডি সিল্ক পাঞ্জাবি এবং সেরওয়ানি পাওয়া যাচ্ছে। আর ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শার্ট।

এ ছাড়া ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় মেয়ে শিশুদের ওয়েস্টার্ন সেট, পার্টি ফ্রোক, মিডি, লাছা, টপস, স্কার্ড এবং ছেলে শিশুদের জন্য ১ থেকে ৭ হাজার টাকায় বাবা সেট, বয়েজ গেঞ্জি, থ্রি-কোয়ার্টার, ফোর কোয়ার্টার, কোটি শার্ট এবং বিশেষ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নামানুসারে মোদি কোর্টের বেশ চাহিদা রয়েছে।

মতামত