টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরাজয় বাংলাদেশের

spচট্টগ্রাম, ১০ জুলাই (সিটিজি টাইমস): টি-টোয়েন্টির মতো প্রথম ওয়ানডেতেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ। কাগিসো রাবাদার বোলিং তোপে ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলতে কোনও বিপদে পড়তে হয়নি প্রোটিয়াদের। ৩১.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৫৩ বল বাকি রেখে আট উইকেটের সহজ জয় পায় প্রোটিয়ারা। এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ১-০ তে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ১৬১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন হাশিম আমলা। ৫.৩ ওভারে দলীয় ২২ রানে মাশরাফির বলে ব্যক্তিগত ১৪ রান করে মাহমুদউল্লাহর কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক হাশিম আমলা।

আমলার বিদায়ের পর জুটি গড়তে থাকেন কুইন্টন ডি কক ও ফাফ ডুপ্লেসিস। তবে তা বেশিক্ষণ থিতু হতে দেননি অফস্পিনার নাসির হোসেন। ১৩.১ ওভারে ডি কককে আউট করে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৩৫ রান করেন ডি কক।

এরপর ডুপ্লেসিস ও রিলি রুশোর ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডুপ্লেসিস ৭৫ বলে ৬৩ ও রিলি রুশো ৫৩ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও নাসির হোসেন পান একটি করে উইকেট।৮ ওভারে ১৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন কাগিসো রাবাদা।

এর আগে কাগিসো রাবাদার বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৩৬.৩ ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ওভারে কাগিসো রাবাদার হ্যাটিট্রিকে শুরুতেই বিপদে পড়ে টাইগাররা। তার বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল । পরের বলে ফারহান বেহারদিনকে ক্যাচ দেন লিটন দাস। পরের বলে মাহমুদউল্লাহকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান রাবাদা। এবং এরই সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটিট্রিকের রেকর্ড করে নাম লিখিয়েছেন তাইজুলের পাশে। এরপর আরও তিন উইকেট নিয়ে ওয়ানডে অভিষেকের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়লেন রাবাদা।

অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের পর সৌম্যকে আউট করে চতুর্থ উইকেট শিকার করেন কাগিসো রাবাদা। দলীয় ৪০ রানে তার বলে ডুমিনির কাছে ক্যাচ দেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ২৭ রান করেন তিনি।

টপ অর্ডারের চার ব্যাটম্যানের দ্রুত বিদায়ের পর চাপের মুখে পরে টাইগাররা। বিপদের মুখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন সাকিব ও মুশফিকের জুটি। তবে তাদের জুটি বেশিক্ষণ থিতু হতে দেয়নি জেপি ডুমিনি। দলীয় ৯৩ রানে মুশফিককে আউট করে ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন এই স্পিনার। এরপর দলীয় ১১ রান যোগ করেই ব্যক্তিগত ৫ রান করে ক্রিস মরিসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির রহমান।

বিপদের মুখেও দলকে একাই টানছিলেন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না খোদ তার নিজেরেই। দলীয় ১২০ রানে সাকিবকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন স্পিনার ইমরান তাহির। আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ব্যক্তিগত ৪৮ রান করেন সাকিব। এরপর বাংলাদেশের শিবিরে আবারও উইকেটের আঘাত হানেন রাবাদা। মাশরাফিকে ব্যক্তিগত ৪ রানে ফেরানোর পর জুবায়ের হোসেনকে ৫ রানে বোল্ড আউট করে অভিষেক ম্যাচেই ছয় উইকেট নেন তিনি। এরপর ৪৪ বলে ৩১ রান করে নাসির মরিসের বলে বোল্ড হলে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া নাসির হোসেন করেন ৩১ রান। প্রোটিয়াদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা। এছাড়া ক্রিস মরিস নেন দুটি উইকেট।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত