টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

খালেদার সৌদি যাত্রা বাতিল নিয়ে নানা গুঞ্জন

kaleda-bnpচট্টগ্রাম, ১০ জুলাই (সিটিজি টাইমস): প্রায় প্রতিবছরই ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।লন্ডনে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত বড় ছেলে তারেক রহমানও্ তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে যান সৌদিতে একই উদ্দেশে।কথা হয় নানা ইস্যুতে যা ফোনে বলা সম্ভব হয়না।মা-ছেলের এই মহামিলনের দৃশ্য বাংলাদেশের প্রায় সব গণমাধ্যমেই ফলাও করে প্রচার করা হয়। যথারীতি এবারও তাঁর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দিক নির্দেশনা দেন এবং সৌদি সফর যাতে ভালোভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য দোয়াও চান।তবে যাওয়ার দিন সকালে হঠাৎ সৌদি যাত্রা বাতিল হয়ে যায়।

তবে কি কারণে সব প্রস্তুতি নেয়ার পরও খালেদা জিয়া সফরের সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন তা নিয়ে নানান গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়।

এ বিষয়ে যেমন খালেদা জিয়ার নিজের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তেমনি দলের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য।

মঙ্গলবার পর‌্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল।সোমবার দলের সিনিয়র নেতাদের ডেকে জরুরি বৈঠকেও ওমরা পালনে যাবেন বলে সবার কাছে দোয়া চান খালেদা জিয়া।বিমানের টিকেটও কাটা হয়।কিন্তু ওমরায় যাওয়ার দিন অর্থাৎ বুধবার সকালের দিকে খবর হয় তিনি আজ(মঙ্গলবার) সৌদি যাচ্ছেন না।এমন খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।কিন্তু বিএনপির তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা না বলায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েন গণমাধ্যমকর্মীরা।

সবশেষ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

যদিও এর আগেই নানা সূত্রের বরাত দিয়ে ওমরা সফর বাতিলের কারণ হিসেবে নানান ধরণের খবর শোনা যায়।

তবে যে খবরটি সবচেয়ে জোরালোভাবে শোনা যায়, তাহলো লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমান ভিসা জটিলতায় পড়ায় খালেদা জিয়া তার ওমরা সফর বাতিল করেন।বলাবলি হচ্ছে, ঈদের পর খালেদা দল পুনর্গঠনে হাত দিতে যাচ্ছেন। আর এটি নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলাও জরুরি।

যদিও রিপন তারেকের ভিসা জটিলতার কারণে সফর বাতিল বা স্থগিত হয়েছে এমনটা মানতে নারাজ। এমন খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি জানান, “সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণ এখনো আছে। তাই সুবিধাজনক সময়ে তিনি (খালেদা জিয়া) ওমরা পালন করতে যাবেন।” একইসঙ্গে সফর নিয়ে রিপন নিজস্ব একটি ব্যাখ্যা দেয়ারও চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ধরে নিচ্ছি তার দলের শীর্ষ নেতারা মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন ও বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ফলে দলের শীর্ষ নেতাদের এই অবস্থা দেখে হয়তো তিনি ভালো নেই।”

বেশ কয়েকবছর ধরে পবিত্র রমজানের শেষের দিকে সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ওমরা পালনে দেশটিতে যান খালেদা জিয়া। গত বছর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমানও পরিবারসহ তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তারেক রহমানের ভিসা জটিলতার আটকে যায় সবকিছুই।

কথা ছিল তারেকের পরিবার ছাড়াও প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি, মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান মালয়েশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়ে খালেদার সঙ্গে যোগ দেয়ার।

একটি সূত্রে জানা যায়, ডজনখানেক মামলার পলাতক আসামি তারেক রহমান গত ছয় বছর ধরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বৈধতা হারানোয় তিনি এখন শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। আর সৌদি আরবের ভিসা পেতে এটিই বড় সমস্যা বলে জানা গেছে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানও তারেকের ভিসা জটিলতার কারণে সফর বাতিল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। আর তারেক রহমান ভিসা পাওয়ার আগ পর‌্যন্ত খালেদা জিয়া ওমরায় যাচ্ছেন না এটা অনেকটা নিশ্চিত বলেও তিনি জানান।

এছাড়া সম্প্রতি উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসণে হস্তক্ষেপ চেয়ে খালেদা জিয়া সৌদি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা এতে সাড়া দেয়নি।সেদিকটি বিবেচনায় নিলেও বিএনপির সঙ্গে সৌদি রাজ পরিবারের সম্পর্ক যে আগের মতো নেই সেটা বলাই যায়-এমন মন্তব্য এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌদি সফর নিয়ে সেদেশের সরকারের আগ্রহও এখন আর আগের মতো নেই।

দলের অন্য একটি সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন নিয়ে হয়রানির নেপথ্যে সরকারের কূট তৎপরতা আছে এমন খবরে খালেদা জিয়া শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেছেন।

আরো একটি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সফরসঙ্গী হিসেবে সৌদি দূতাবাসে ১৫ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যরা রাজকীয় অতিথি হিসেবে সেখানে অবস্থান করলেও সব সফরসঙ্গীকে সৌদি দূতাবাস রাজকীয় অতিথি করতে রাজি না হওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আসলে বিষয়টি কি বলতে পারবো না। এটা ম্যাডামের (খালেদা জিয়া)ব্যক্তিগত বিষয়। আর ওমরা করার জন্য তো যে কোনো সময় যাওয়া যায়।”- ঢাকাটাইমস

 

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত