টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে কিশোরীর লঘু অপরাধে গুরুদন্ড!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০৯ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  মানিকছড়ির সদরস্থ মাস্টার পাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলমের অবুঝ কন্যা (১৫) মনের আবেগে মহামুনিস্থ আবদুল আজিজের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫) এর সাথে প্রেম নিবেদন হয়! এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় উভয়ে সাক্ষাতে কথা বলার অপরাধে জনপ্রতিনিধিরা হাতে-নাতে তাদের আটক গভীর রাতে পুলিশে সোর্পদ করে দিনভর ঘটনার সমাধা দিতে নাটক সাজিয়ে অবুঝ কিশোরীকে ১৫ঘন্টা পুলিশ হেফাজতে রেখেছে গ্রাম্য সালিশদাররা!

পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর মাস্টার পাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো.খোরশেদ আলমের অবুঝ কন্যা (১৫) মহামুনির মো.জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫) এর সাথে ৩ বছর ধরে প্রেম নিবেদন চলে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় মো. জাহাঙ্গীর মেয়ের বাড়ীতে এসে মেয়েকে ডেকে টিউবওয়েল এর পাশে নিয়ে কথা বলার সময় প্রতিবেশিরা টের পেয়ে তাদের ধরে ফেলে। পরে ইউপি সদস্য (সাবেক) মো. আবদুল জলিল ঘটনাটি ওয়ার্ড সদস্য আবদুল লতিফকে অবহিত করলে রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোন সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ছেলে-মেয়েকে পুলিশে সোর্পদ করেন। সকাল হতে ছেলের ওয়ার্ড সদস্য মো. জয়নাল আবেদীনসহ বেশ কয়েকজন সমাজপ্রতি বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে দিনভর দেন-দরবার অব্যাহত রাখেন এবং দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন! বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম সর্ম্পকিত কথোকপন ছাড়া কোন আলামত উদ্ধার করতে পারেনি কেউ! অথচ অবুঝ কিশোরীর কান্ডকে কেন্দ্র করে অহেতুক ১৫ ঘন্টা পুলিশ হেফাজতে রাখায় সচেতন মহলে বিষয়টি আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে থানায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম.এ.রাজ্জাক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বাবুল’র উপস্থিতি দেখা গেছে । যার কারণে বিষয়টি ‘ টক অব দি মানিকছড়ি’ রুপ নেয়। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. আবদুল লতিফ জানান, ছেলের অভিভাবক না আসায় সারা দিনেও এটি সমাধা করা যায়নি! নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক সালিশদার জানান, কিশোরীর পিতার টাকা-পয়সা না থাকায় বিষয়টি এতদূর গড়িয়েছে! এদিকে কিশোরীর পিতা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, অহেতুক ছোট ঘটনাকে গ্রাম্য বিচারকরা বড় করে মেয়ের জীবনে কলংক লাগিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি।

সামান্য ভূলের কারণে অবুঝ কিশোরীকে এভাবে কেন থানায় আটকে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে থানার ও.সি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা কিশোরী ও যুবককে ভোররাতে পুলিশে সোর্পদ করলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে-মেয়ে একে-অপরের সাথে প্রেম সম্পর্ক ছাড়া অবৈধ কোন কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি । তারপরও নেতারা সারা দিন বিষয়টি সমাধান করতে ব্যর্থ হয়! যার কারণে ইফতারের পর অভিভাবকদের থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের মতামতের ওপর সমাধান করা হবে।

মতামত