টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আত্মহত্যা: সচিবের পদত্যাগ চাইলেন মুক্তিযোদ্ধারা

RANA1চট্টগ্রাম, ০৯ জুলাই (সিটিজি টাইমস): মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিক্ষোভ করেছেন। পদত্যাগ চেয়েছেন সচিবের।

অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আইয়ুব খান নামের একজন ষাটোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা ঢাকার একটি হোটেলে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।

মৃত্যুর আগে তিনি এক চিঠিতে লিখেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান তাকে বাসা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন। এই অপমান সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণার জন্য সচিবকে মাছ, শুঁটকি, টাকা দিয়েছেন বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

তবে বুধবার সচিব এক প্রতিবাদপত্রে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, আইয়ুব খানকে তিনি চেনেনই না।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা পরিবহন পুল ভবনের পঞ্চম তলায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিবের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। সচিব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এর পর বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা ভবনের সভাকক্ষে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে যা যা করার আমরা করব, আপনাদের সঙ্গে থাকতে হবে। আমরা এর শেষ দেখব, কাউকে ছাড়ব না।’

এ সময় যুগ্ম সচিবের তদন্ত বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধারা, কেউ কেউ সচিবের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অফিসে ছিলেন না।

এক পর্যায়ে সচিবালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে ১৫-২০ জনের একটি পুলিশ দলও ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর একটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লিফটের সামনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে দেখা হয়।

এ সময় মন্ত্রী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী আগামী রবিবার সকাল ১১টায় বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বসবেন বলে কথা দেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের দলটিকে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল (বিচ্ছু জালাল)।

তিনি বলেন, ‘আমরা সচিবের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনি আগে যা বলেছেন আমাদেরও তাই বলেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা জেনেছি সচিব মুক্তিযোদ্ধাদের কাজগুলো ঠিকভাবে করেন না। আগামী রবিবার মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা আন্দোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইয়াকুব আলী সিকদার বলেন, ‘আমরা সচিবের চাকরিচ্যুতি চাই। সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যুগ্ম সচিবের তদন্ত আমরা মানি না। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।’

পরে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক, শুনে আমি মর্মাহত হয়েছি। মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার অসচ্ছল হলে আমরা আর্থিকভাবে সহায়তা করব।’

‘সচিবের গলাধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব। এ জন্য একজন যুগ্ম সচিবকে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার আগের লেখা চিঠি, তার এলাকার কমান্ড কাউন্সিল থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন’ বলেন মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৃত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমিটি অনুমোদনের জন্য এসেছিলেন বলে শুনেছি। কিন্তু বিষয়টি আমাদের মন্ত্রণালয়ের নয়। কমিটি গঠনের দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের। কমান্ড কাউন্সিল আমাদের অধীন্যস্ত কোনো সংস্থাও নয়। তার পরও সচিব বা অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আমরা বিষয়টি শক্তভাবে দেখব।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত