টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কোকেন পরীক্ষার আদেশ

Cockne-চট্টগ্রাম, ০৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  কোকেনের আলামত সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম এ আদেশ দেন।

এছাড়া বিদেশে কোন উন্নত ল্যাবরেটরিতে কোকেনের আলামত পরীক্ষা করা যায় কিনা সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে যোগাযোগ করতে বলেছেন তিনি।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (উত্তর) মো.কামরুজ্জামান।

কনটেইনারে থাকা ১০৭টি ড্রাম থেকে তিনটি করে মোট ৩২১টি কৌটা আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মতে প্রতিটি কৌটায় ২শ’ মিলি লিটার করে ভোজ্যতেল সংগ্রহ করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ডিবির প্রতিনিধি দল বুধবার বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্দর ইয়ার্ডে সিলাগালা করা কনটেইনারটি খুলে এসব আলামত সংগ্রহ করে।

এরআগে সকাল ১১টার দিকে আদালতের আদেশ নিয়ে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারি কমিশনার (উত্তর) কামরুজ্জামান ডিবির একটি দল নিয়ে বন্দরে যান। এরপর প্রত্যেক সংস্থার প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকতা সেরে জব্দৃকত কনটেইনারটি খুলেন। ডিবির টিম বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১০৭টি ড্রাম থেকে প্রত্যেকটিতে ২শ’ মিলি লিটার করে তিনটি কৌটায় ভর্তি করেন। পরে প্রত্যেকটি কৌটার গায়ে স্টিকারের মাধ্যমে চিহ্ন দিয়ে পৃথক তিনটি বাক্সবন্দি করা হয়। এরপর পুনঃরায় বন্দরে সংরক্ষিত কনটেইনারটিকে সিলগালা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার কামরুজ্জামান  বলেন, ‘আদালতের আদেশে প্রত্যেক সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কনটেইনারে থাকা ১০৭টি ড্রাম থেকে তিনটি কৌটায় করে মোট ৩২১ কৌটা আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করে পরবর্তী নির্দেশনা নিয়ে ঢাকার তিনটি ল্যাবে পাঠানো হবে।’

সূত্র জানায়, গত ৭ জুন প্রথম কনটেইনারটি খোলার পর সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের কোন অস্তিত্ব না পেলেও পরবর্তীতে ঢাকার সাইন্সল্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ল্যাবে চালানের ৯৬ নম্বর ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব মিলেছিল দুই ল্যাবের পরীক্ষাতেই। জব্দকৃত প্রত্যেক ড্রামে ১৮৫ লিটার করে তরল ভোজ্যতেল রয়েছে। ওই ড্রামে আনুমানিক ৬০ কেটি তরল কোকেন থাকার কথা জানিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। তবে এতে কি পরিমাণ কোকেন রয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে জানতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

পরবর্তীতে কোকেন আমদানির ঘটনায় আদালতের নিদেশে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হলে মামলার তদন্তভার আসে নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। এরপর ফের প্রত্যেকটি ড্রাম থেকে কোকেনের আলামত নিয়ে পুনঃ রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম। এনিয়ে ডিবি ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সাময়িক দ্বন্দ্বও তৈরি হয়। পরিত্রাণ পেতে দুই পক্ষই আদালতের দ্বারস্ত হলে আদালত সম্বনিত তদন্তের মাধ্যমে কোকেনকান্ডের রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার আইনগত তদন্ত সংস্থা হিসেবে ডিবিকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে বন্দর, কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত গত ৬ জুন রাতে বন্দরে কোকেন সন্দেহে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সান ফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এরপর ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় ‘আমদানিকারক’ প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ, একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও খান জাহান আলী ট্রেডার্সের সহযোগি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তাফা সোহেলকে আটকের পর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এরমধ্যে প্রথম তিনজন ১০ দিন ও সোহেলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত