টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দ্বিতীয় দফায় ‘তরল কোকেন’র আলামত সংগ্রহ

Kokenচট্টগ্রাম, ০৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস):চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের নামে আনা ১০৭ ড্রাম ‘তরল কোকেন’র পুনঃপরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত দল দ্বিতীয় দফায় আদালতের নির্দেশে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দরে এনসিটি ইয়ার্ডে যান। নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান, ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান, বন্দর, কাস্টমস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান বলেন, আদালতের নির্দেশে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে; যা আগে করা হয়নি। বেলা পৌনে ১২টার দিকে নমুনা সংগ্রহের জন্য ড্রামের মুখ খোলা হয়। প্রতিটি ড্রাম থেকে তিনটি জারে করে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জার তিনটির একটি সায়েন্সল্যাবে, একটি গোয়েন্দা দফতরে এবং অন্যটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে পাঠানো হবে।

২৩টি ড্রামের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করছি বিকেলের মধ্যে সব নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ করা যাবে বলেও জানান তিনি।

ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর আর কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। বৃষ্টি একটু সমস্যা করলেও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, গত সোমবার প্রথম দফা আলামত সংগ্রহে তদন্ত কর্মকর্তা বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে গেলেও কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে চলে আসতে হয়। বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদালত তদন্ত কাজে উপ-কমিশনার পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেন।

নগর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ‘তরল কোকেন’ সন্দেহে ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও উন্নত ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯-এর ১ (খ) ধারায় খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সোহেলসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ এবং একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল সোহেল।

তদন্তে জানা যায়, নবী মার্কেট, ২৩২, খাতুনগঞ্জ; ঠিকানা ব্যবহার করে সানফ্লাওয়ার তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে এক কন্টেইনার (সিডিএইচইউ-৯১৪৫৭৬৯/১৯৩৮৪৪) পণ্য আমদানি করে খানজাহান আলী লিমিটেড। ওই কন্টেইনারে ১০৭টি ড্রামে দুই হাজার ১৪০ কেজি ‘তরল কোকেন’ রয়েছে। এরপর শনিবার বিকেলে ওই প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে মালিক নূর মোহাম্মদকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোহেলকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত