টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে দুদিন ধরে চলছে বিদ্যুতের মিসকল!

bidoচট্টগ্রাম, ০৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড অর্জিত হলেও কিছুতেই যেন কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং। গত দুদিন ধরে ১০-১২ মিনিট পরপর বিদ্যুতের মিসকলে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষ। 

আলাপকালে নগরীর কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনে ১২ থেকে ১৪ বার লোডশেডিং নিয়মিত ব্যাপার চট্টগ্রামে। তম্মধ্যে গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে এ পর্যন্ত প্রতিঘণ্টায় ৬ থেকে ৭ বার আসা-যাওয়া করছে বিদ্যুৎ। এতে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ।

চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এহসানুল হক জানান, বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে তার বাসার ফ্রিজ ও ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ৭টি বৈদ্যুতিক বাল্ব। পুরো আবাসিক এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবারের অধিকাংশ বাসায় এয়ারকন্ডিশন, ফ্রিজ, ওভেন, কম্পিউটার ও বাল্ব নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ফ্রিজে রাখা হাজার হাজার টাকার মাছ-মাংস, শাক-সবজিও।

বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, মার্কেটে তার কাপড়ের দোকানটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় বিদ্যুতের মিসকল। বিদ্যুৎ আসার পর কম্পিউটার পুরো চালু হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে বিদ্যুতের শকে তার দোকানের তিনটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মারফতে দেশে একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ডের কথা জানলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। চট্টগ্রামে এমনিতেই প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ বার নিয়মিত লোডশেডিং করা হয়। তম্মধ্যে সোমবার থেকে বিদ্যুৎ এই আসছে আর এই যাচ্ছে অবস্থা।

এ ব্যাপারে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিতরণ অঞ্চল দক্ষিণ পিডিবি সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড হলেও চাহিদাও বাড়ায় লোডশেডিং পুরো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে ২০০৮ সালের আগে যে পরিমাণে বিদ্যুতের লোডশেডিং হতো তার সিংহভাগ কমে এসেছে।

তিনি বলেন, গত সোমবার থেকে বিদ্যুতের ঘনঘন আসা যাওয়ার কারণ হচ্ছে পটিয়ায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। ওই কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়ার সময় বোয়ালখালী উপজেলার হারগিজ খালে ট্রেন দুর্ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নামে।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালে ভেঙে পড়া সেতুটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। আশা করছি খুব শিগগির এ কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফার্নেস অয়েল পৌঁছালেই বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে। তখন বিদ্যুতের মিসকল হবে না আর।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত