টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মুখ খুললেন বাকরুদ্ধ মেসি

spচট্টগ্রাম, ০৭ জুলাই (সিটিজি টাইমস): চিলির কাছে কোপা আমেরিকার শিরোপা খুইয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওলেন মেসি।

টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নেননি। শনিবারের সেই ফাইনালে ট্রাইবেকারে ৪-১ ব্যবধানের পরাজয়ের পর টু শব্দটি করেননি।

চার দিন পর এসে মুখ খুললেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার মেসি। নিজের ফেসবুক পেজে পরাজয়ের নীল কষ্ট তুলে ধরেছেন তিনি।

মাত্র দুটি বাক্যে শেষ করেছেন। মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালে হেরে যাওয়া দুঃখের চেয়ে কষ্টের আর কি আছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সমর্থন করে আসছেন এবং তা অব্যাহত রেখেছেন, কঠিন সময়েও আমাদের ছেড়ে যাচ্ছেন না, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

কোপার এবারের আসরে দারুণ পারফর্ম করেও শিরোপা জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার। আর এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না মেসি। কারণ তার নেতৃত্বে গত বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা।

এদিকে, কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের যন্ত্রণায় টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটাই কি ফেলে এসেছেন লিওনেল মেসি আর্জেন্টাইন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী উত্তরটা হ্যাঁ।

ফাইনালের পর কোপার সেরা ফুটবলারের সোনার বল না দেওয়ার জন্য মেসি নাকি আবেদন করেন সংগঠকদের। তারপরেই সেই পুরস্কার সরিয়ে নেন সংগঠকরা।

বিষয়টির সত্যতা প্রমাণে ম্যারাডোনার দেশের প্রচার মাধ্যম একটি ভিডিও ফুটেজও বার বার দেখাচ্ছে। যেখানে দেখাচ্ছে, এভার বনেগা টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করতেই মাথা নিচু করে প্রথমে দাঁড়িয়ে পড়লেন মেসি। তারপরেই হাঁটতে শুরু করেন পোডিয়ামের দিকে।

সেখানেই সংগঠকদের দিকে তাকে দেখা যায় কিছু বলতে। আর্জেন্টাইন মিডিয়ার দাবি, মেসি তখনই নাকি সংগঠকদের কাছে অনুরোধ করেন, টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার তাকে যেন না দেওয়া হয়।

এরপরেই দেখা যায়, সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি সরিয়ে নিচ্ছেন সংগঠকরা। এমনকি পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে রানার আপ মেডেল গলায় ঝোলানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মেডেল খুলে নিয়ে হনহন করে হাঁটা দেন ড্রেসিংরুমের দিকে!

শুধু এই ফুটেজই নয়, আর্জেন্টাইন মিডিয়ার আরো দাবি, পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চিলির আর্জেন্টাইন কোচ জর্জ সাম্পাওলি মেসির কাছে নাকি জানতে চেয়েছিলেন, কেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারটা প্রত্যাখ্যান করলে?

জবাবে মেসি বলেন, ‘চিলিতে এসেছিলাম কোপা আমেরিকার ট্রফিটা টিমের হয়ে দেশে নিয়ে যেতে। নিজের জন্য ট্রফি নিতে আসিনি।’

ফুটবল বিশেষজ্ঞ মহলের কেউ কেউ আবার এই ঘটনার সঙ্গে এক বছর আগে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ সেদিন রাতেও ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিশ্বকাপ রানার্স হয় আর্জেন্টিনা।

পরে অধিনায়ক মেসি বলেছিলেন, ‘টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের পুরস্কারটা পাওয়া ভাবাচ্ছে না। ভাবাচ্ছে একটাই ব্যাপার— ট্রফিটার এত কাছে এসেও তা দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না। এটা চরম যন্ত্রণা।’

তফাৎ এটাই যে সে বার সেরা ফুটবলারের ট্রফিটা নিয়ে গিয়েছিলেন মেসি। এবার সেই ট্রফি মেসি আদৌ নিয়েছেন কি না তা নিয়ে এক রাশ জল্পনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের তরফে সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি এ ব্যাপারে। মন্তব্য করেননি এলএম টেনও।

মতামত