টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মানিকছড়িতে বাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত ভূমি জবর-দখল নিয়ে উত্তেজনা

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

22চট্টগ্রাম, ০৫ জুলাই (সিটিজি টাইমস):মানিকছড়ির বক্রিপাড়া, মনাধন পাড়া, গবামারা, ওয়াকছড়ি, হাফছড়িতে বাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত ভূমি জবরদখলকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালীরা এখন মুখোমুখি অবস্থানে। কতিপয় ধর্মীয় ভান্তে মন্দির নির্মাণের নামে শত শত একর ভূমিতে ঘর তৈরি ও বাগান সৃজন অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরজমিন পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ির দূর্গম এলাকা বক্রিপাড়া, মনাধন পাড়া, গবামারা, ওয়াকছড়ি, হাফছড়ি এলাকা ১৯৮৩-৮৪ সালে বসবাসরত প্রায় ২শ বাঙ্গালী পরিবারের বসত ভূমি রয়েছে। তারা সকলে বর্তমানে গচ্ছাবিল, হাতিমুড়া ও মানিকছড়ি গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছে। ফলে ওসব ভূমি এখন পরিত্যক্ত। সম্প্রতি কতিপয় উপজাতীরা ওই ভূমিগুলো তাদের দাবী করে তাতে মন্দির নির্মাণের নামে ধর্মীয় পতাকা টাংগিয়ে তাতে বাগান সৃজন ও ঘর তৈরি শুরু করলে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে একাধিকবার পুলিশ ও সেনাবাহিনী সরজমিনে গিয়ে এসব জায়গা কেউ দখল না করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই এলাকায় কোন বাঙ্গালী বসবাস না করার সুযোগে প্রতিনিয়ত উপজাতিরা নতুন নতুন ঘর তৈরি ও বাগান সৃজন অব্যাহত রাখে। ফলে এ নিয়ে বাঙ্গালীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছিল। রবিবার সকাল থেকে ওই এলাকায় আবারো দু’শতাধিক উপজাতি সশস্ত্র প্রহড়ার জঙ্গল কেটে তাতে ঘর তৈরি করতে দেখা গেছে। এ খবর পেয়ে শতাধিক বাঙ্গালী সকাল ১১টায় মনাধন পাড়া ও বক্রিপাড়ায় প্রতিবাদ করতে গেলে উভয়ের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাশের জঙ্গল থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে আতংক সৃষ্ঠি করছিল। এ সময় উভয়ের মাঝে সংঘর্ষের রুপ ধারণ করে।

এ সময় ভান্তে বোধি রতœ ভিক্ষু জানান, তিনি মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্যে এখানে জায়গা ক্রয় করেছেন। ফলে এখন তাতে জঙ্গল কেটে ঘর তৈরির কাজ করছি।

মানিকছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও গচ্ছাবিল গুচ্ছগ্রামের অধিবাসী মো. আবুল কালাম জানান, বাঙ্গালীরা গুচ্ছগ্রামে বসবাস করায় তাদের নিজস্ব ভূমি পরিত্যক্ত রয়েছে। এ সুযোগে সম্প্রতি উপজাতীরা জায়গাগুলো দখল করার চেষ্টা করে এবং কিছু অংশে বাগান সৃজন করে। এ নিয়ে বাঙ্গালীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার যুথিকা সরকার,খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান, সার্কেল এ.এস.পি (রামগড়) মো. ইউনুছ আলী মিয়াসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং ভূমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে ভূমির রেকর্ডপত্র যাচাই-বাচাই পূর্বক মালিকানা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়ে দেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত