টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

লোহাগাড়ায় মহিলা মেম্বারের পরকীয়ার আগুনে ভাঙ্গনের মুখে জোসনার সংসার

আবদুল আউয়াল জনি
লোহাগাড়া-সাতকানিয়া প্রতিনিধি 

Pic memberচট্টগ্রাম, ০৪ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য শাহীনা আক্তার প্রকাশ (অবিবাহিত মেম্বার) এর পরকীয়া প্রেমের আগুনে পুড়ে যেতে বসেছে জোসনার ১০ বছরের সাজানো সংসার।

জেনেনিন কে এই মহিলা মেম্বার শাহীন? উপজেলার উজিরভিটা গোদার পাড়ার আহমদ কবিরের কন্যা ও চুনতি মুন্সেফ বাজারের কাঠালিয়া পাড়ার মৃত হেডম্যান আবুল খায়েরের বাড়ীর মোহছেন বানুর স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী এই চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য শাহীনা আক্তার শাহীন।

গৃহবধু জোসনা আক্তার জিসু প্রতিবেদককে বলেন লোহাগাড়ার নিয়াজের টেক গ্রামের চানগাজীর ভিটার মৃত আমির হামজার পুত্র কামাল উদ্দিনের সহিত ১০ বছর পূর্বে পদুয়া মল্লিক সোবাহান মনুমিঞা চৌধুরী পাড়ার নুরুল ইসলাম এর কন্যা জোসনা আক্তার জিসুর বিয়ে হয় এবং তাদের ৮ বছর বয়সী জিকু নামের এক পুত্রসন্তান আছে সে ২য় শ্রেনীর ছাত্র এবং জোসনা বর্তমানে অন্তসত্বা, বিয়ের পর সংসারে সুখের আশায় বাবা ও ভাইয়ের কাছথেকে টাকা নিয়ে স্বামী কামালকে চকরিয়ার খুটাখালীতে দোকান নিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করেদিয়ে খুটাখালীতে ভাড়াবাসা নিয়ে স্বামীর সাথে বসবাস করে আসছিল কিন্তু কিছুদিন যাবত তার স্বামীর চলাফেরায় পরিবর্তন লক্ষ করে সে দেখতে পায় তার স্বামী লুকিয়ে মোবাইল ফোনে কথাবলে লুকিয়ে কারসাথে কথা বলছে জানতে চাইলে তার স্বামী কামাল তাকে মারধর সহ শারীরিক অত্যাচার শুরু করে কিন্তু সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সকল নির্যাতন মুখবুঝে সহ্য করতে থাকেন।

গৃহবধু জোসনা আক্তার জিসু আরো বলেন কিছুদিন পূর্বে জানতে পারি আমার ব্যাবহৃত সিম কার্ডটি আমার স্বামী তার পরকীয়া প্রেমিকা শাহীনা আক্তার শাহীনকে দিয়ে দিয়েছে আমি সেই নাম্বারে ফোনকরে আমার ব্যাহৃত সিম কার্ডটি তার কাছে কেন জানতে চাইলে সে আমাকে বলে আমার স্বামী কামাল তাকে ১০ লক্ষটাকা কাবিনে বিয়ে করেছে তাই আমাকে আমার স্বামীর বাসা থেকে চলে যেতে বলে হুমকি দেয় এবং আমার মা-বাবাকে ফোন করে আমাকে আমার স্বামীর বাসা থেকে নিয়ে যেতে বলে অনাথ্যায় আমাকে আমার স্বামী কামালের মাধ্যমে তালাক দেওয়ার ব্যাবস্থা করবে অথবা মেরে ফেলার ব্যাবস্থা নিবে বলে জানায় একথা আমার স্বামীকে বললে সে আমাকে মারধর করে আমার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আমার বাবার বাড়ীর সাথে সকল প্রকার যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

উক্ত ঘটনায় গৃহবধু জোসনা আক্তার জিসুর মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে লোহাগাড়া ও চকরিয়া থানায় শাহীনা আক্তার শাহীন ও কামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে ২টি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা চকরিয়া থানার এসআই দিদারুল ইসলাম ও লোহাগাড়া থানার এএসআই নুরুল হক জানান উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

উক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে মহিলা মেম্বার শাহীনা আক্তার শাহীনের শশুরবাড়ীতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান, কেন গৃহবধু জোসনা আক্তার জিসুকে হুমকি দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন, জোসনার স্বামী কামালের সাথে তার কি সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন ভাবে কথাবার্তা বলেন প্রথমে বলেন কামাল তার ফুফাত ভাই আবার বলেন তার প্রতিবেশী, অবশেষে বলেন কামালের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই আমি তাকে ব্যাবসা করার জন্য সাড়ে চারলক্ষ টাকা দিয়েছি তারসাথে আমার লেনদেনের সম্পর্ক,

পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে জানতে চাওয়ার কারনে প্রতিবেদককে মানহানীর মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মহিলা মেম্বার শাহীনা আক্তার শাহীন এবং তার পরকীয়া প্রেমিক কামাল উদ্দিনের মোবাইল নাম্বার থেকেও প্রতিবেদককে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দেখে নেওয়ার হুমকী দেওয়া হয়।

মহিলা মেম্বার শাহীনা আক্তার শাহীনের বিষয়ে জানতে চাইলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অধিকাংশ লোকজন প্রতিবেদককে জানান মহিলা মেম্বার একজন চরিত্রহীন মহিলা তার সাথে কামাল ছাড়াও অনেকের অনৈতিক সম্পর্ক আছে কিন্তু মান সম্মানের ভয়ে কেউ মুখফোটে কিছু বলতে সাহস পায়না এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বয়স্কভাতা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে লোকজনের কাছথেকে টাকা নিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ আছে।

গর্ভবতী গৃহবধু জোসনা আক্তার জিসুর ১০ বছরের সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার হাতথেকে বাঁচাতে ও চুনতী ইউনিয়নের লোকজনকে চরিত্রহীন এই মহিলা মেম্বারের অপকর্ম থেকে বাঁচাতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনে লোহাগাড়া অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. অধ্যাপক আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে গৃহবধু জোসনার পরিবার ও চুনতী ইউনিয়নের সাধারন এলাকাবাসী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত