টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফে জুন মাসে ৯ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধারঃ ৪০ মাদক মামলায় ৩৯ পাচারকারী আটক

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০২ জুলাই (সিটিজি টাইমস):  টেকনাফ সীমান্তে পুলিশ-বিজিবি-কোষ্টগার্ড-মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর গেল জুন মাসে অভিযান চালিয়ে ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৪শ ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য ৯ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭’শ টাকা। এর বিপরীতে ৪০টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। এসময় ৩৯ জন আসামীকে হাতে নাতে আটক করেছে প্রশাসন।

পুলিশ ঃ পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, গেল জুন মাসে ১ লক্ষ ২৪হাজার ৫শ ৮৫পিচ ইয়াবা উদ্ধার কর সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য ৩কোটি ৭৩লক্ষ ৭৫হাজার ৫শ টাকা। এসব ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসময় ২৯ জন পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এদিকে ডিবি পুলিশ ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩০হাজার পিচ ইয়াবা সহ ২পাচারকারীকে আটক করে। এর বিপরীতে ১টি মামলা দায়ের করে। অপরদিকে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর ৩’শ ৩০ পিচ ইয়াবা সহ ১ পাচারকারী আটক করতে সক্ষম হয়।

বর্ডার গাড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঃ সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গাড বাংলাদেশ (বিজিবি) জওয়ানেরা সীমান্ত এলাকা ও বিভিন্ন চেক পোষ্টে যাত্রী বাহী গাড়ীতে অভিযান ও তল্লাশী চালিয়ে গেল জুন মাসে ১লক্ষ ৬১হাজার ১শ ৯৪পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। যার মূল্য ৪কোটি ৮৩লক্ষ ৫৮হাজার ২শ টাকা। এসময় ৬জনকে আটক এবং ১৯টি মামলা রুজু করেছে বিজিবি।

কোস্টগার্ড ঃ টেকনাফ কোষ্টগার্ড পুরো মাসে ১কোটি ১১লক্ষ ৫৩হাজার টাকা মূল্যের ২২হাজার ৩শ ৬পিচ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় ১টি মামলার বিপরীতে ১জনকে আটক করে।

এদিকে মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চিরুনী অভিযান যখন চলছে ঠিক তখনই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতরা আবারও এলাকায় ফিরে পুরোদমে এব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, বর্তমানে টেকনাফের লেদা ও মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক ইয়াবা রকিম(রকিম মেম্বার) ও আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসা জমজমাট করে তুলেছে। রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ে করে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সেখানে আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পে বসে এসব গডফাদাররা গ্রামে-গঞ্জে বীরদর্পে পাইকারী হারে অবাধে ইয়াবা পাচার করছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মাদক ব্যবসায়ীরা লবণের ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি, রিকসা ও টমটমকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সুত্র জানায়। স্থানীয়রা ইয়াবা শুণ্যের কোটায় নিয়ে আসতে রোহিঙ্গা নারীদের বিয়ে করে ক্যাম্পে শিকড় গজিয়ে যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদেরকে গণ গ্রেপ্তার ও পাচারে জড়িত ট্রাক, পিকআপ, রিকসা, সিএনজি, টমটম গাড়ীতে অভিযান পরিচালনার জোর দাবী জানান।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, মাদক-মানবপাচারে কখনো কাউকে ছাড় দেয়নি। ইয়াবার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছি। ইয়াবা শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৪২বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আবু জার আল জাহিদ জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার অভিযান কখনো বন্ধ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মাদকের সাথে কখনো কিছুতেই আপোষ করা হবে না। টেকনাফকে ইয়াবা মুক্ত করতে “প্রজন্মকে বাঁচাতে” প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আন্তরিকতা এবং টেকসই ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।

মতামত