টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২০ দলীয় জোট শক্তিশালী করার তোড়জোড়

20-dolচট্টগ্রাম, ০১ জুলাই (সিটিজি টাইমস): সরকার বিরোধীজোটে ভাঙন নয়, বরং দ্রুত শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ২০ দলীয় জোটকে। জোটের অভ্যন্তরে যাতে কোনো ধরনের ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং শরিকদের মধ্যে ‘সমন্বয়হীনতা’ না থাকে সে উদ্যোগ ইতিপূর্বেই নেয়া হয়েছে। ২০ দলের শীর্ষ নেতারা জোটকে শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকায় যাতে আন্দোলন-সংগ্রামসহ সব ধরনের কর্মসূচি সফল করা যায় সে লক্ষ্যে জোটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ২০ দলীয় জোটের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হবে। জোটে থাকা প্রত্যেক দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে এ কমিটি করা হবে জানিয়েছেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা।

তিনি জানান, ১৯৯৬-০১ টার্মের শেষের দিকে চারটি দল জোটবদ্ধ হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগ পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে চার দলীয় জোট সম্প্রসারিত হয়ে ১৮ দল এবং পরে ২০ দলে রূপ নেয়। কিন্তু সম্প্রসারিত হওয়ার পর এখনো ঢাকায় এ জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়নি। আগামী দিনে জোটের কর্মসূচি সফল করতে শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সব মহানগর ও জেলাগুলোতে ২০ দলের সমন্বয় কমিটি গঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাও বিরোধীজোটের সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

২০ দলীয় জোটনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়া জোটের বাইরে থাকা অন্যসব রাজনৈতিক দলের খোঁজ-খবর রাখছেন। এসব দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তাঁকে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কিছু বামপন্থী দলও রয়েছে।

এছাড়া জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন নিজেই সমন্বয় করছেন। যদিও জোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ২০ দলের আলোচিত শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য শরিকদের ডাকা ইফতার মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন খালেদা জিয়া।

২০ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খুবই হিসেব করে পা ফেলছেন। তিনি অতীতের সব সময়ের চাইতে এখন খুবই সতর্ক। এবার অযথা বাতি জ্বালাবেন না তিনি।

জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাসের আন্দোলন ও ৩ সিটি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটে ভাঙন ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর আর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন বলে দাবি করেন ২০ দলীয় জোটের এ শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ২০ দলের বয়স কম হলেও ৪ দলীয় জোটের বয়স যথেষ্ট হয়েছে। এ দলগুলো পরীক্ষিত। এরা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে জানে। বিশেষ বিশেষ সময়ে জোটে ভাঙন সৃষ্টির জন্যে আওয়াজ তোলা হলেও তাতে কান দেন না শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, জোটনেতা ভাঙন চান না, চান জোট আরও শক্তিশালী হোক।

তিনি বলেন, ইফতার মাহফিল কেন্দ্রিক জোট শরিকদের মধ্যে খালেদা জিয়া একটি বিশেষ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে করণীয় নিয়ে শরিকদের সঙ্গে কথাও বলছেন তিনি ইতিমধ্যে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগুচ্ছে তার দল। হঠাৎ করে বা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনের আয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে এতে অংশ নেয়ার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে ২০ দলের। সেক্ষেত্রে কে কোথায় কি দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাকে কোথায় নিযুক্ত করা হবে তাও ঠিক করে রাখা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ২০ দলকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শেষ করবে তারা। কারণ, সমন্বিত জোটই আগামীতে ভোটের জন্য কাজ করবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত