টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ড্রাগন ফলের সফল আবাদ করেছেন রাকিবুর রহমান টুটুল

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Drgonচট্টগ্রাম, ০১ জুলাই (সিটিজি টাইমস)::  অনেকটা শখের বসে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছিলেন তরুন উদ্যোক্তা রাকিবুর রহমান টুটুল। শতভাগ সফলও হয়েছেন । এখন বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল আবাদ করছেন তিনি।চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চাষ হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বহুমুখী গুণে গুনান্বিত পুষ্টিকর ফলের রাজা ‘ড্রাগন’ ফল।

মিরসরাই উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় এই ড্রাগন ফলের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে এখন এক একর জমিতে প্রতি সপ্তাহে আয় করছেন ২ লক্ষ টাকা।

জানা গেছে, দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যে ড্রাগন ফলের জন্ম। প্রায় এক’শ বছর আগে জনৈক এক ব্যক্তি এই ড্রাগন ফলের বীজ ভিয়েতনামে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয় ড্রাগন ফলের চাষ। বর্তমানে এই ফল সেখানে অন্যতম প্রধান ফল হিসাবে পরিচিতি পায়। পরে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মায়ানমার প্রভৃতি দেশে এই ফলের চাষ সম্প্রসারিত হতে থাকে।

এই ফল কাঁচা-পাকা উভয়তেই খাওয়া যায়। খাদ্য ও ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল খেতেও সুস্বাদু। সারা বছর এই ফলের গাছ রোপন করা যায়। অধিক তাপ সহ্যকারী গাছ তাই গ্রীস্ম প্রধান দেশে এর চাষ ভালো হয়। শীতের চার-পাঁচ মাস ছাড়া বছরের অবশিষ্ট সাত-আট মাস ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। আগামী দুই দশকের মধ্যেই ড্রাগন ফল পৃথিবীর সেরা ফল হিসাবে গণ্য হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।

ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম (হাইড্রোসেনাস এন্টেটাস)।

আমাদের দেশের জলবায়ু ড্রাগন ফলের অনুকূলে। মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড়ের রাকিবুর রহমান টুটুল পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ড সফরকালে এই ড্রাগন ফলটির চাষাবাদ ও পুষ্টিগুন দেখে আমাদের দেশের আবহাওয়ায়ও সম্ভব বলে জেনে কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন । এরপর মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকার নাহার এগ্রো হ্যাচারীর পতিত জমিতে চাষ করতে শুরু করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কাটিং বৃদ্ধি করে তিনি ৫০০ চারা তৈরি করে বাগানের অবয়ব গড়ে তোলেন।

দেখতে পুরোপুরি ক্যাকটাস গাছের মতো। গাছটি পরিপূর্ণ আকার ধারন করলে অনেকটা ড্রাগন আকৃতির। বর্ষা মৌসুম এলে ভুট্টা ফুলের মতো থোকায় থোকায় ফুল ধরে ফলে রূপান্তুরিত হতে থাকে। পরিপূর্ণ ফলে রূপান্তরতি হলে এই অনেকটা ডালিম আকৃতি রূপ নেয়। তবে ফলের গায়ে ছোট ছোট ক্যাকটাস পাতা ও থাকে। পাকলে ফলটি তিন শ্রেণীভেদে গোলাপি, সাদা ও হলুদ বর্ন ধারণ করে।

ড্রাগন ফল বাগানের তত্বাবধায়ক ডাঃ মনজু চাকমা বলেন, আমি গত ২৯ জুন ১৮০ কেজি ফল উত্তোলন করেছি। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ফলের আড়তে পাঠানো হবে এই ফল। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা বর্তমানে বাজার মূল্য।

আর আমরা যদি বিদেশে চালান করতে পারি পাবো দ্বিগুণ মূল্য। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩০০ কেজি ফল তুলতে পারছি আমাদের প্রাায় ৮০০ গাছ থেকে।
এ বিষয়ে ড্রাগন ফলচাষের উদ্যোক্তা রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য আমি কিছু দেশে ভ্রমণ করি, আর এই ফলটি আমার দৃষ্টি কাড়ে। কারন থাইল্যান্ডে কেজি ১হাজার টাকা মূল্যের এই ফল যদি আমরা চাষ করে রপ্তানি করতে পারি অনেক বেকার যুবকের কাজের সন্ধান হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে এই ফল চাষ করে আমরা ও আমাদের জনগোষ্ঠীর রোগ নিরাময় ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারি। তিনি আরো জানান চাহিদা হিসেবে আমরা এই বাগান কে আরো সম্প্রসারণ করছি। উপজেলার অলিনগরে ও ড্রাগন ফলের একটি বাগান নির্মাণের কাজ চলছে। এই অর্থকরি ফল চাষে উপজেলা কৃষি বিভাগের সাহায্য নিয়ে অনেকেই চাষ করতে এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি জানান।

মতামত