টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কর্ণফুলি টানেলে বদলে যাবে অর্থনীতির চিত্র

Karnafuli_tunnelচট্টগ্রাম, ০১ জুলাই (সিটিজি টাইমস):: বহুল আকাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণে চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ৭০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য টানেলের চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কর্ণফুলী টানেল চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতির চালচিত্র। বহুমুখী এই টানেলটি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় মাপের অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী নদী বন্দরনগর চট্টগ্রামকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। এক ভাগে রয়েছে নগর ও বন্দর এবং অপর ভাগে রয়েছে ভারী শিল্প এলাকা। কর্ণফুলী নদীর ওপর ইতিমধ্যে তিনটি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা বিরাজমান প্রচুর পরিমাণ যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়। নদীর মরফলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারিতার জন্য বড় হুমকি।

এই পলি জমা সমস্যার মোকাবেলার জন্য কর্ণফুলী নদীর ওপর আর কোনো সেতু নির্মাণ না করে এর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে চট্টগ্রাম জেলার দুই অংশকে সংযুক্ত করার জন্য কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রস্তাবিত টানেল নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দর নগরকে কর্ণফুলী নদীর অপর অংশের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং পরোক্ষভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে সারা দেশের সাথে সংযুক্ত করবে।

কর্ণফুলী নদীর দিয়ে বহুমুখী টানেল নির্মাণের ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) এর চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম। তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকল্পটির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দেন।

চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত হয়ে আব্দুচ ছালাম বলেন, ‘এমন ধারণা নিয়ে কাজ করতে পারায় আমি অনেক বেশি আনন্দিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা চট্টগ্রাম ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বিশাল আকারের অবদান রাখতে পারবে। আব্দুচ ছালাম দাবি করেন, তার এই স্বপ্নের প্রকল্পটি পুরো বাংলাদেশের চেহারাই বদলে দেবে।

১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম রিং রোড প্রজেক্ট নামে পরিচিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। টানেল নির্মাণে প্রকল্পটি একটি প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, টানেলটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র সাংহাইয়েও পরিণত হতে পারে। প্রকল্পটি কক্সবাজারের সাথে যোগাযোগকে আরও সহজতর করে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে চীনে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় তিনিও উচ্ছ্বসিত। চুক্তি সম্পাদনের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, স্বপ্নের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতির চালচিত্র। দ্রুততম সময়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত