টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অবৈধ স্থাপনায় ভরপুর চট্টগ্রাম বন্দর প্রকল্প এলাকা

chittagongচট্টগ্রাম, ০৩ জুলাই (সিটিজি টাইমস): বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী ও চাক্তাই খালের মুখের প্রায় ৬৫ একর জায়গা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা প্রায় সাড়ে তিন হাজার ঘরবাড়ি তুলেছেন। এসব ঘরবাড়ি উচ্ছেদে অভিযান চালাতে এর আগে বেশ কয়েকবার সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। বরং এখানে সেখানে খাল-নদী ভরাট করে নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালের জুলাইয়ে বন্দরের প্রকল্প এলাকায় কর্ণফুলী দখল, মাটি ভরাট ও নদীতে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সাথে নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককেও নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু তিন বছর পরও আদালতের সেই নির্দেশ পালন হয়নি।

এছাড়া ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসে কর্ণফুলীর উভয় তীর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়ে যান নৌমন্ত্রী। গত দেড় বছরে কথিত এই টাস্কফোর্স উদ্ধার করতে পারেনি এক ইঞ্চি অবৈধ ভূমিও। উল্টো নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথে নতুন উদ্যোগে দখল হচ্ছে নদী। উঠছে নতুন ঘরবাড়ি।

অন্যদিকে কর্ণফুলীর তীরে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েক হাজার একর ভূমি। এসব ভূমির বেশির ভাগই বেদখল। কর্ণফুলীর তীরে থাকা দুই হাজার ৪৬৯ একর ভূমির মধ্যে বন্দর কর্তৃপরে নিজেদের ব্যবহৃত জমি মাত্র ৯৭৫ একর। অবশিষ্ট জমির মধ্যে বন্দর সহায়ক বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১৩৫ একর ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে ৩৩৪ একর জমি লিজ দেয়া আছে। আর স্থানীয় রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলে আছে নদীতীরে থাকা বন্দরের ১০৯ একর জমি।

মতামত