টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আনন্দ-উত্সবে ঈদ উদ্‌যাপন

চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই (সিটিজি টাইমস): ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উত্সব। একমাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উত্সবের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করছে দেশের মুসলমানরা।

আকাশে মেঘ এবং হালকা গরম থাকলেও তুলনামূলকভাবে শান্ত আবহাওয়ায় শনিবার সকালে ঈদের প্রথম জামাতে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় সমজিদ ময়দানে হাজার হাজার মুসল্লীর সমাগম ঘটে। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এক কাতারে দাঁড়ান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষ।

এতে ইমামতি করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল-কাদেরী।

জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। দ্বিতীয় জামাতে ইমামিত করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম আল্লামা আলহাজ্ব মাওলানা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নগরীতে এবার ২৪৪টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের ঈদ জামাতে বাঁশের ঘেরা দিয়ে ভিআইপিদের জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করা হলেও মানুষের চাপে শেষ পর্যন্ত তো আর টেকেনি। নামাজ আদায় শেষে ধনী, গরীব, মন্ত্রী, নেতা, সাধারণ জনতা সবাই পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এদিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়েই আসে না, উদ্ভাসিত হয় ইসলামের সুমহান সাম্যের এক বড় পরিচয়।

ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করেছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করে ঈদের বিশেষ সংখ্যা।

এবার টানা নয় দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। ফলে এবার নগরী প্রায় ফাঁকা। তাই নগরবাসীকে ঈদের দিন স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে, দেশের কোটি কোটি মুসলমান সারা দেশে অসংখ্য স্থানে ঈদগাহে কিংবা মসজিদে মঙ্গলবার সকালে ঈদের নামাজ পড়েন একসঙ্গে। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টিমুখ করে আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় উৎসবে ঈদের দিনটি কাটাচ্ছেন তারা।

চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার আয়োজনের তোড়জোড়। ‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকছে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন।

ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার খবর শোনার পর উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। সরকারি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ায়-মহল্লায় বাজতে থাকে এই উৎসবের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই গানটি- ‘ও মন রমজানেরই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’।

তবে মুসলমানদের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসবে বিষাদের কালো ছায়া ফেলেছে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের গাজায় ঈদের দিনেও হামলা চালিয়ে ১১ শিশুসহ ১৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বর্ণবাদী ইহুদী সেনাবাহিনী।

মতামত