টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ের মহামায়ায় আবারো যুবক খুন, পুলিশকে না জানিয়ে দাফন

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Khunচট্টগ্রাম, ৩০ জুন (সিটিজি টাইমস):: মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক এলাকায় আবারো মিলেছে ফখরুল ইসলাম আলফাজ (৩০) নামের এক যুবকের লাশ। ধারালো অস্ত্রে কোপানো ক্ষতবিক্ষত এবং শরির থেকে হাত আলাদা হয়ে যাওয়া ওই লাশ তড়িঘড়ি করে দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও একই স্থানে একাধিক খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওইসব খুনেরও কোন কুলকিনারা করতে পারেনি।

জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্বদুর্গাপুর গ্রামের মুরশিদ আলমের ছোট ছেলে আলফাজ প্রতি রাতে এলাকার একটি মাছ চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে মহামায়া লেকে যান জাল দিয়ে মাছ ধরতে। গত সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতেও ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মাছ ধরতে যান মহামায়ায়। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লেকের ১শ মিটার দক্ষিণ পশ্চিমে রেললাইনের পাশে আফাজের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পরিবারের লোকজকে খবর দিলে তারা এসে লাশ নিয়ে বেলা ১২টার দিকে তাঁর নিজ গ্রামের একটি কবরস্থানে দাফন করে ফেলে। সে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রহিম বক্স ভূইয়া বাড়ির মৃত মোর্শেদ আলমের ছেলে। তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও সংসারে দেড় বছর বয়সী ছেলে সন্তান রাহিনও রয়েছে।

খবর পেয়ে নিহত আলফাজের বাড়ি গেলে পরিবারের কোন সদস্য খুনের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। তবে পরে নিহত আলফাজের বড় ভাই আজিম উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, ‘সোমবার আলফাজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। মঙ্গলবার সকালে মহামায়া থেকে লোকজন আমাদেরকে খবর দিলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে আসি। মাথা, চোখ এবং ঘাড়ে কোপের দাগ রয়েছে। শরির থেকে একটি হাত আলাদ করে ফেলা হয়।’

কারা আলফাজকে খুন করতে পারে জানতে চাইলে আজিম বলেন, ‘আমার ভাই অনেকের সাথে চলাফেরা করতো। কে খুন করেছে আমরা জানি না। তাই আমরা মামলাও দায়ের করিনি।’

নিহত আলফাজের প্রতিবেশীরা জানান, আলফাজ একসময় আরব আমিরাতে থাকতো। বেশ কয়েকমাস আগে দেশে ফিরলে এলাকার একটি মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা হয়। সে থেকে পরিবারের লোকজনের সাথে আলফাজের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে কারণে পরিবারের লোকজন জামেলা এড়াতে মামলা পর্যায়ে যায়নি এবং তড়িঘড়ি করে দাফন করে ফেলেছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শোনার পর আলফাজের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জামেলা এড়াতে মামলা দায়ের করতে রাজি হয়নি।’ খুনের সত্যতা নিশ্চিত করে খোকা জানান, ‘আলফাজের ঘাড়ে, পীঠে, মাথায় এবং মুখে একাধিক কোপের দাগ দেখা গেছে। কুপিয়ে শরির থেকে হাত আলাদা করে ফেলা হয়েছে।’ খুনের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘থানা পুলিশকে আমি বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেছে রেললাইনের পাশে লাশ পাওয়া যাওয়ায় এটি রেলওয়ে পুলিশের দায়িত্বে পড়ে।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি ভারপ্রাপ্ত এসআই জহির জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মিরসরাইয়ের গড়িয়াইশ এলাকায় দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা খবর পাইনি।

তবে মিরসরাই থানার ওসি ইমতিয়াজ এমকে ভূঁইয়া জানান, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না দিলে আমাদের কিছু করার নাই। তবে আমরা খুনের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহামায়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করার পর থেকে এ পর্যন্ত এখানে মোট ৯টির মত লাশ পাওয়া যায়। গত মে মাসে মেলে আব্দুল্লাহ আলম মামুন নামের এক যুবকের লাশ। সর্বশেষ গতকাল মেললো আলফাজের লাশ। এসব লাশের অধিকাংশই উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ পর্যন্ত পুলিশ একটি খুনেরও কুলকিনারা করতে পারেনি।

এম মাঈন উদ্দিন,
মিরসরাই

মতামত