টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও এনজিও সংস্থা

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ৩০ জুন (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া পটিয়া পাড়া এলাকায় গরীব অসহায়দের মাঝে ঋণ বিতরণ কর্মসূচির কথা বলে বাসাবাড়ী ভাড়া নিয়ে টাঙ্গানো হয় পল্লী নারী উন্নয়ন জাগরণ সংস্থার সাইনবোর্ড। গত ২৭ জুন শনিবার থেকে লোকজনকে নানাভাবে ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে এই সংস্থার সদস্য হওয়ার লোভে ফেলে ঋণ দেয়ার কথা বলে মাত্র ২ দিনের মধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর উধাও হয়ে গেছে পল্লী নারী উন্নয়ন জাগরণ সংস্থার নামে প্রতারক দল।

গত ২৯ জুন সোমবার সদস্যদের সংস্থা থেকে ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয় ও আমানতের নামে টাকা নেয় সংস্থার ম্যানেজার পরিচয়দানকারী কামরুল ও রাসেল নামের আরেকজনা।

কিন্তু গত ২৮ জুন রবিবার বিকেল থেকে তারা উধাও হয়ে যায়। তবে প্রতারকদের ঠিকানা জানানো হয়নি গ্রাহকদের। তাদের মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংস্থার টাঙ্গানো সাইনর্বোডে রেজি নং-০৫৬৭১৯৯০ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা লেখা হয়েছে বাড়ী নং-৫২, রোড-নুরজাহান, মোহাম্মদপুর ঢাকা-১২০৭।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ১০ জনের একটি সিন্ডিক্যাট আছে। ২ জন করে বিভক্ত হয়ে বের তারা উপজলার দক্ষিণের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে অসহায় নারী পুরুষদের ঋণ প্রদান করে সাবলম্বী হতে সহায়তা করবে বলে প্রচার চালায়।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়া এলাকার প্রবাসী খোরশেদ আলমের বাড়িতে গত শনিবার ১ লাখ টাকা সেলামি মূল্যে এবং মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় দু’টি কক্ষ বাড়া নেয় ওই সংস্থা।

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সহজ সরল পুরুষ ও মহিলাদেরকে সদস্য ফরম পুরণ করেন এবং জনপ্রতি ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা করে সঞ্চয়ের নামে টাকা নেয়। তাদের কথা দিয়েছিল ১ লাখ, ২ লাখ করে সবার মাঝে গত ২৯ জুন সোমবার দুপুরে ঋণের টাকা বিতরণ করা হবে। কিন্তু রবিবার দুপুর থেকেই প্রতারক চক্রের লোকজন পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে ভাড়া নেওয়া বাসাটির মালিক পটিয়া পাড়ার প্রবাসি খোরশেদ আলমের স্ত্রী রোকসানা আকতার বলেন, শনিবার হঠাৎ ৪/৫ জন অফিসার এসে আমাকে বাড়ীটি ভাড়া নিতে চায়। আমি তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা করে মাসে মাসিক ভাড়া ও অগ্রিম ২লাখ টাকা দিতে হবে বললে তারা রাজি হয়। কিন্তু অগ্রিম বাবদ ১ লাখ টাকা জামানত দিতে হয়ে সোমবার টাকা দিবে বলে জানায়। সোমবার জানতে পারি তারা পালিয়ে গেছে। তারা আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে একদিন অফিসও করেছিল আমাদের এই বাসায়। আমি সরল মনে তাদের বিশ্বাস করে চাবি দিছিলাম। সেখানে তারা কিছু চেয়ার টেবিলও এনেছিল।

ভুক্তভোগী নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের ন্যাশনাল ভিডিওর পারভেজ, নোয়াপাড়া পাড়া অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ ও অপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাঞ্চন জানিয়েছেন, ৫ হাজার টাকা অগ্রীম প্রদান করলে ৫০ হাজার টাকা, ১০ হাজার দিলে ১ লাখ টাকা, আর ৫০ হাজার দিলে একটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি সিএনজি অটোরিক্সা ঋণ দেয়া হবে বলে জানান। তাই আমরা সবাই তাদের চাহিদামত টাকা দিয়েছিলাম। তারা আরো জানান একই ভাবে কথা বলে এরকম অসংখ্য শত শত সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

এদিকে আরেক সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাবু বলেন, আমাদের এলাকা সাদার পাড়ার জসিম ড্রাইভারের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার, আবু তাহেরের স্ত্রী থেকে ৫ হাজার, জোহরা বেগম নামের আরেকজনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা এখন ঋণ ও ঋণদাতা সংস্থার উধাও হওয়ার খবর পেয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছেন।

প্রতারণার শিকার আমজাদ বলেন, আমাকে বলা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় আমানত একসাথে দিলে ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটা সিএনজি অটোরিক্সা আমাদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। যা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। এ আশায় আমি নগদ ৩৫ হাজার টাকা ম্যানেজার কামরুলের হাতে দিই। বাকী ১৫ হাজার টাকা একদিন পর দিতে অফিসে গেলে তাদের অফিস বন্ধ পাই। টেলিফোন করলে বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাতে বলে। তখনই আমি বুঝতে পারি তারা প্রতারক।

এছাড়াও সরেজমিন নোয়াপাড়া পথেরহাটের চৌদ্দ কলোনীতে গেলে এখানে বসবাসকারী রাণী আকতার বলেন, শনিবার দুপুরে আমাদের এখানে এসে তারা প্রথমে আশা ব্যাংকের লোক পরিচায় দেয়। পরে নারী উন্নয়ন সংস্থার কথা বলে ৫ হাজার টাকা করে সঞ্চয় আমানত দিলে ৫০ হাজার টাকা ঋন দেবে বলে জানায়। আমি নিজেও ৫ হাজার দুশত টাকা ধার করে এনে ঋণ পাওয়ার আশায় তাদের হাতে তুলে দিই। কিন্তু সোমবার জানতে পারি তারা অফিস ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এছাড়াও এ কলোনীর জুনু আকতার, খাদিজা বেগম জানান তারাও ৫ হাজার দুইশত টাকা করে তাদের হাতে তুলে দেয় ঋণের টাকা পাওয়ার আশায়।

এ নিয়ে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার গরীব মহিলা পুরুষদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ওই ঘটনার পর নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলমকে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ জানান। পরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ কোর্টে ও দুদকে অভিযোগ করার পরার্মশ প্রদান করেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম ও সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, লাখ লাখ টাকা নিয়ে এনজিও সংস্থার লোকজন পালিয়ে যাওয়া খবর শুনেছি।

রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তাছাড়া এসব অভিযোগ কোর্টে ও দুদকে করতে হয়।

মতামত