টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোনো আইনের তোয়াক্কা করছেনা মিল মালিকরা

প্রশাসনের নজরধারী নেই হ্যাচারী ও ফিডস মিলগুলোতে

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৯ জুন (সিটিজি টাইমস):: ‘ভাই আমার মালিক অনেক ক্ষমতা ধর, তিনি বড় মাপের মানুষ, প্রশাসনের সব দপ্তরের সাথে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের ডি,এল,ও ফ্যাক্টরী ভিজিটে আসার সময় উনাকে ফোন করার পর আসেন।’ বুক ফুলিয়ে এসব কথা বলেন বেঙ্গল এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার ওয়াহেদুল আলম। তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন ফ্যাক্টরী ভিজিটে আসার সময় মালিককে সাথে করে নিয়ে তারপর এসেছেন। আমার ফ্যাক্টরী মালিককে ধরার কারো সাদ্য নেই বলে তিনি জানান।

বেঙ্গল এগ্রো লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠনটি গড়ে তোলা হয়েছে সীতাকুণ্ডস্থ বাড়বকুণ্ড অনন্তপুর গ্রামের পাহাড়ের পাদদেশে। শুরুতে মিলটি হিন্দুদের দেবত্ব সম্পত্তির উপর গড়ে উঠায় রয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

অনন্তপুর গ্রামের অধিবাসী ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মেম্বার সৃতি লতা ভারতী জানান, শস্বানের জায়গা দখল করে মিলটি গড়ে তোলা হয়েছে। জায়গাটি দখল হয়ে যাওয়্য়া গ্রামের লোকজনের মরদেহ সতকারের কোনো জায়গা অবশিষ্ট রইল না।

এদিকে প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ থাকায় কোনো আইনেরই তোয়াক্কা করে না সীতাকুণ্ডের ফিডস মিল ও হ্যাচারীগুলো। নানা অনিয়মের মধ্যে এসব মিল পরিচালিত হলেও তদারকীর প্রয়োজন মনে করেনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বছরে দু-একবার দায়সারা তদারকি হয়ে খবর রাখে না বাকী সময়। ফলে ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয় ৪ টি মিল।

বেঙ্গল এগ্রো লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায়, নীতিমালা অনুযায়ী খাদ্য রাখারমত পরিবেশ নেই মিলটির ভিতরে। বিশাল গুদামে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে আমদানীকৃত খাদ্য উপাদান সমূহ। চরমঝুকি আর অসাস্বস্থকর পরিবেশে কাজ করেই চলছে শ্রমিকরা। আবার মজুদ রাখা খাদ্যের স্যাত স্যাতে বস্তাগুলো বড় বড় ট্রাকে করে পাঠানো হয় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে।

তাছাড়া মিল তদারকি করতে মিল মালিকের অনুমতি নিতে হবে। তার অনুমতি ছাড়া প্রশাসনের লোকজন কখনো ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানান বাড়বকুণ্ডস্থ কাজী হ্যাচারীর ম্যানেজার মো. আরিফ। আর এ ধরনের মন্তব্যকে একমাত্র অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের রক্ষায় নানা ধরনের মন্তব্য করতে পারে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ।

তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা মিল র্কতৃপক্ষের নানা মন্তব্যকে অস্বিকার করে বলেন, প্রশাসন প্রশাসনের নিয়মে চলবে। ফিডস মিল এবং হ্যাচরীগুলো তদারকি করতে কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। আমাদের পক্ষ হতে যথা নিয়মে প্রতিটি মিল তদারকি করা হচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত