টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বারইয়ারহাট পৌরসভায়

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

Mirsarai-Baryarhat-Newsচট্টগ্রাম, ২৯ জুন (সিটিজি টাইমস)::  সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাট পৌরসভায়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে পৌরসভার প্রায় সব সড়ক। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই বাজারের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী। মেয়র এবং কাউন্সিলরদের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন। কিন্তু সে জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পায়নি পৌরবাসী। নির্বাচনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি ব্যবসায়ীরা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। একাধিকবার পৌর মেয়র ও কাউন্সিলকে বিষয়টি অবহিত করে কোন প্রতিকার পায়নি তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সামান্য বৃষ্টি হলে বারইয়ারহাট পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে। বিশেষ করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ গলিতে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি দূর্ভোগে পড়ে।

লাকি ক্লথ গার্মেন্টেসের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ শামসুদ্দীন ও ছালেহ ইলেট্রিকের সত্ত্বাধিকারী ছালাহ উদ্দিন মোর্শেদ জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে মসজিদ গলিতে পানি জমে যায়। দোকানে ক্রেতা আসতে পারে না। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতাদের আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পানি জমে বিষাক্ত পানির ছোঁয়ায় বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

হাসান সুজ‘র সত্ত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন সাদেক, শিক্ষা বিপনীর আশরাফ হোসেনসহ অনেকে জানান, বর্ষাকালে মসজিদ গলি ব্যবসায়ীদের গলার কাটা হয়ে পড়ে। সড়কে পানি জমে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারে না।

বারইয়ারহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী হাজ্বী শাহ আলম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে অনেক অসুবিধা হয়। পানি নিস্কাসনের সুবিধা না থাকায় দিনের পর দিন সড়কে পানি জমে থাকে। পৌর কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে শীঘ্রই পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান তিনি।
জানা গেছে, বারইয়ারহাটের ব্যবসায়ের কেন্দ্র বিন্দু মসজিদ গলি। এখানে রয়েছে মদিনা মাকের্ট, মিমি মাকের্ট, সেঞ্চুরী মার্কেট, আল-আমিন শপিং কমপ্লেক্স, মহিউদ্দিন বাবুল মাকের্ট, মৌচাক মাকের্ট, লাকি ক্লথ, পালকি ক্লথসহ ১৫টি ব্যবসায়ীক স্থাপনা। ওইসব মার্কেটগুলোতে প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটু বৃষ্টিতে মসজিদ গলি পানি জমে আছে। ড্রেনেস ব্যবস্থা দূর্বল ও প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে বের হতে পারে না। যানচলাচল বিঘিœত হয়। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে ফেলে। আবার রোদ উঠলে দোকান খোলে।

এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মুসা জানান, মসজিদ গলির ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি চলাচল করতে পারে না। তাই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বারইয়ারহাট পৌর মেয়র তাহের আহম্মদ জানান, মসজিদ গলির দুই পাশের স্থাপনাগুলোতে উপযুক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টির পর পানি আবার নেমে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের কোন ক্ষতি হয় না বলে তিনি দাবি করেন। তবে শীঘ্রই ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত