টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কর্মকর্তা-ঠিকাদার যোগসাজসে রেল গচ্ছা দিচ্ছে ২ কোটি টাকা, রেলের ৫ কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ

চট্টগ্রাম, ২৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: রেলওয়ের ট্রাকশন মোটর কেনায় দরপত্র মূল্যায়নে সর্বনিন্ম দরদাতাকে ‘কৌশলে’ বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ায় রেলের প্রায় ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। এতে দরপত্রের তিনটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও রহস্যজনক কারণে শ্রীযা মেটাল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে দরপত্রের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে রেলের সচিবসহ উধর্তন ৫ কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয় চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল। তবে দরপত্র পুন:মূল্যায়ন না করলে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দেয়া হলেও তা পাত্তাই দিচ্ছে না রেলওয়ে।

লিগ্যাল নোটিস প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) মো. খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) ওয়াজির আহমেদ ফাতেহ ও প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) সেলিম মোহাম্মদ।

অভিযোগকারী দরপত্রের সর্বনিন্ম দরদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিন্দ রেকটিফায়ার্স এর দেশীয় প্রতিনিধি লাকী ট্রেডিং এর উপদেষ্টা মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সর্বনিন্ম দরদাতা হলেও হিন্দ রেকটিফায়ার্সকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সংসদীয় কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরে অভিযোগ দেয়ার পর কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি অন্যায়ভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান শ্রীযা মেটালকে যোগ্য বিবেচিত করে কার্যাদেশ দেয়। কিন্তু শ্রীযা দরপত্রের প্রধান তিনটি শর্ত না মানলেও ট্রাকশন মোটর মেরামতের কার্যাদেশ দেয়ায় রেলের প্রায় ২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। তবে এ বিষয়ে আমরা আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রেলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) সেলিম মোহাম্মদ বলেন, কারিগরিভাবে যোগ্য হওয়ায় শ্রীযা মেটালকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। হিন্দ-এর পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হলেও বিষয়টি রেলের আইনি বিভাগ দেখভাল করছেন। ঠিকাদার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা করা হলে রেলও আইনিভাবে তা মোকাবেলা করবেন বলে তিনি জানান।

জানা যায়, কারিগরিভাবে অযোগ্যতার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছে হিন্দ। বিষয়টি জানিয়ে এরই মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির কাছে আরেক দফা চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হিন্দের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করে সংসদীয় কমিটি। অভিযোগ আছে, দূনীর্তির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিন্ম দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, হিন্দ কারিগরিভাবে সম্পূর্ণ যোগ্য কোম্পানি। এ-সংশি¬ষ্ট সকল প্রমাণ প্রতিষ্ঠানটির কাছে আছে। বরং ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত শ্রীযা মেটাল অযোগ্য। এ ধরনের অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক। না হলে সংশি¬ষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেল কর্মকর্তা সেলিম মোহাম্মদ আরো বলেন, কারিগরিভাবে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকেই ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কিছুই করার নেই।

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, রেল ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ট্রাকশন মোটর সংকটের কারণে রেলওয়ের বেশকিছু ইঞ্জিন অচল বসে আছে। তাই ট্রাকশন মোটর মেরামতে গত বছর আগস্টে দরপত্র আহ্বান করে রেলওয়ের সিসিএস বিভাগ। এতে ৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র আহবানের পর ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার (১৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার) সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করে হিন্দ রেকটিফায়ার্স। আর দ্বিতীয় দরদাতা শ্রীযা মেটাল প্রস্তাব করে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রায় ২ কোটি টাকা বেশি দরপ্রস্তাব করলেও হিন্দকে বাদ দিয়ে শ্রীযা মেটালকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

লিগ্যাল উকিল নোটিশে দরপত্রের শর্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ট্রাকশন মোটরের বিদেশী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাধ্যতামূলক থাকলেও শ্রীযা মেটাল তা দাখিল করেনি। এছাড়া গত ১০ বছরে সর্বনিন্ম ৫০টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের অভিজ্ঞতা সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার সার্টিফিকেট দরপত্রের সাথে দাখিলের শর্ত ছিল। দরপত্রের মূল তিনটি শর্তই পূরণ করতে পারেনি শ্রীযা মেটাল। এতে করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবেও শ্রীযা মেটালকে কারিগরি হিসাবে বাতিল করার কথা থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত