টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

paniচট্টগ্রাম, ২৮ জুন (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আত্নীয়-স্বজনের বাড়ি ও আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষরা। তবে বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় এখনো পানি পুরোপুরি নামেনি। 

এদিকে বৃষ্টির কারণে নগরীর মুরাদপুর, ২ নম্বার গেট, হামজারবাগ, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, হালিশহর, আগ্রাবাদ, প্রবর্তক, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজারসহ নগরীর কয়েকটি নিচু এলাকায় গত ৬দিন পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শনিবার বৃষ্টি কম হওয়ায় নগরীর কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৌসুমী বায়ু প্রবল থাকার কারণে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর ও নদী বন্দরকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

এদিকে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসায় জেলার নদী ও খালে পানি কমতে শুরু করেছে। এতে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

তবে বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কিছু কিছু এলাকায় ভেঙে যাওয়া সড়ক মেরামত করা হলেও গ্রামীণ সড়কগুলো মেরামত করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে গত কয়েকদিন ধরে সড়কটির সাতকানিয়া অংশে পানি উঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ  বলেন, ‘সাতকানিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ ও ডলু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া, বড়দোয়ারা, কাটা খালির কূল, ধর্মপুর, কেঁওচিয়া, কালিয়াইশ, নলুয়া সহ বেশ কিছু ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি নেমে গেছে। তবে আমিলাইশ, কেঁওচিয়া ও চরতির কিছু এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দি আছে।’

সাতকানিয়ার কেঁউচিয়ার এলাকার বাসিন্দা আবদুল গফুর জানান, পানি নামতে শুরু করায় অনেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।

শনিবার দুপুর থেকে লোহাগাড়া উপজেলার টংকাবতী, ডলু, হাঙ্গর, জাংছড়ি, সরই, সুখছড়ী, হাতিয়া, কূলপাগলী, থমথমিয়া, সোনাইছড়ি, গুইল্যাছড়ি, বোয়ালিয়া খালে পানি কমতে শুরু করেছে।

পটিয়ার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর, জুলধা ও বড় উঠান ইউনিয়নের বড় উঠান, দৌলতপুর ও শাহমীরপুর এলাকায় পানি কমে গেছে। এছাড়া চন্দনাইশের দোহাজারীর রাইজোয়ারা, চাগাচর, বরমাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি নেমে গেছে।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শরমিন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল এবং বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্থ এবং নদী ভাঙ্গন হয়েছে। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করে তাদেরকে সাহার্য্য সহযোগিতা করা হবে এবং নদী ভাঙ্গনে গৃহহারাদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্যদিকে বৃষ্টিতে ফটিকছড়ি পৌর সদর, নাজিরহাট পৌর সদর, সমিতিরহাট, জাফতনগর, রোসাংগীরি, ধর্মপুর, বখতপুর, লেলাং, পাইন্দং. হারুয়ালছড়ি কাঞ্চননগর, সুয়াবিল, নারায়ণহাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও শনিবার সকাল দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

এদিকে পানি নামতে শুরু করলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার নলকূপ ও ডিপটিউবওয়েল ডুবে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধপানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট মেটাতে অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছে।

মতামত