টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্যা-পাহাড় ধসে কক্সবাজারে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫

paniচট্টগ্রাম, ২৭ জুন (সিটিজি টাইমস):: কক্সবাজার জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে জেলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত কয়েক দিনের বন্যায় জেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ বানের পানিতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নারী শিশুসহ বানভাসী এসব মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।

রামু ও চকরিয়া থেকে আজ আরো চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রামুর নিখোঁজ দুজনও রয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বন্যা ও পাহাড় ধরে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ত্রিশ হাজারেরও বেশি ঘর-বাড়ি। ভেসে গেছে ২ শতাধিক চিংড়ি ঘের। পানিতে তলিয়ে গেছে ৫০ হাজার হেক্টর ফসলী জমি।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কসহ জেলার বেশ কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কের ওপর দিয়ে মাতামহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে আসা পানি প্রবল বেগে বইছে।

চকরিয়ায় নদীর স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন- লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের রুস্তম আলী চৌধুরীপাড়ার মৃত আমির আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ ওরফে আনর আলী (৫৫) ও কাকারা ইউনিয়নের প্রপার কাকারার ফরহাদ রেজার স্কুলপড়ুয়া পুত্র কাউসাইন রহিম (১৩)।

রামু উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ১১ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা। রামুতে বন্যায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুজনের মৃতদেহ শনিবার সকালে উদ্ধার হয়েছে।

নিহতরা হলেন, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজল বিল এলাকার বশির আহমদের মেয়ে কামরুনাহার (২২) ও এরশাদ উল্লাহর মেয়ে তরিকা হাসনাত (৪)। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবিতে এই দুজন নিখোঁজ ছিলেন।

ভারি বর্ষণে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় খাদের নিচে গড়ে তোলা বসতবাড়ির উপর পাহাড় ধসে মাটিচাপায় মা-মেয়ের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- শামলাপুর এলাকার আবুল মঞ্জুরের স্ত্রী ছমুদা খাতুন (৪৫) ও মেয়ে শাহেনা আক্তার (১৫)।

শনিবার ভোররাতে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকা থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে পানিতে ভেসে গিয়ে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর হয়।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা জানান, শনিবার জেলার টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত