টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ‘চাঁদা’ আদায়কালে এস আই আটক

pulishuচট্টগ্রাম, ২৫ জুন (সিটিজি টাইমস):  নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক বীমা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এস আই) সহযোগিসহ আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানার তিনপুলের মাথায় ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে নগর পুলিশ এবং শীর্ষ পুলিশের কর্মকর্তারা কোতয়ালি থানায় ছুটে যান। পরস্পরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এসআই মাহবুবুরকে শিল্প পুলিশের কাছে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসীম উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার শিল্প পুলিশের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা মাহবুবুরকে শিল্প পুলিশের কাছে দিচ্ছি। লিখিত অভিযোগও তাদের দেয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জিয়াউল করিম বুধবার গভীর রাত দেড়টার দিকে নগরীর সুগন্ধার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে হালিশহরে বাসায় যাচ্ছিলেন।

পাঁচলাইশে সুগন্ধা আবাসিক এলাকার সামনে থেকে একটি রাইডার হিউম্যান হলারে উঠে তিনি টাইগার পাস এলাকায় গিয়ে নামেন।  সেখানে একটি সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া করে জিয়াউল হালিশহরের দিকে রওনা হচ্ছিলেন।

এসময় মাহবুবুর ও ফরিদ এসে তারাও হালিশহরে যাবে বলে জিয়াউলকে কনভিন্স করে তার অটোরিক্সায় উঠেন।  অটোরিক্সা কিছুদূর যাবার পর মাহবুবুর নিজেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তার কাছে মাদক আছে অভিযোগ করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়।

এসময় মাহবুবুর অটোরিক্সাকে কদমতলীর দিকে যাবার নির্দেশ দেয়। অটোরিক্সা কদমতলী পৌঁছানোর পর মাহবুবুর ও ফরিদ মিলে জিয়াউলকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করে। ভোরে জিয়াউলকে নিয়ে তারা স্টেশন রোডে মার্টিন হোটেলে যান। সেখানে জিয়াউলকে আটকে মাহবুবুর ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে অন্যথায় গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়।

জিয়াউল টাকা দেবার কথা বলে সকাল ৯টার দিকে তাদের নিয়ে জুবিলি রোডে ডাচ বাংলা ব্যাংকের শাখায় যায়। সেখানে যাবার পর জিয়াউল জানায় তার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এক বন্ধু কিছুক্ষণের মধ্যে টাকা অ্যাকাউন্টে দেবে। মাহবুবুর, ফরিদ ও জিয়াউল মিলের ব্যাংকের টাকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এর এক ফাঁকে জিয়াউল কোতয়ালি থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান। সকাল ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, থানায় নেয়ার সময় মাহবুবুর ও ফরিদের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো ছিল। থানায় নেয়ার পর সেগুলো খুলে তাদের সেকেন্ড অফিসারের রুমে বসানো হয়।

কোতয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, মাহবুবুরকে শিল্প পুলিশ চাকুরিচ্যুত করবে।  বিভাগীয় যা যা শাস্তি তা দেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত