টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবানে পানির তলে শত শত বাড়িঘর, নিখোঁজ ২

বান্দরবান প্রতিনিধি

paniচট্টগ্রাম, ২৫ জুন (সিটিজি টাইমস): টানা চার দিনের বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া সড়ক পথ প্লাবিত হয়ে ২য় দিনের মতো জেলার সঙ্গে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে প্রবল বর্ষণের কারণে বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পাহাড়ি ঢলে লামা বাজার, অফিস, আদালত ও থানাসহ নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এছাড়া লামা ও আলীকদমের সঙ্গে জেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। আর জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি বাড়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

এদিকে, আলীকদমে মাতামুহুরী নদীর পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে ২জন, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়ায় নামক স্থানের সড়কে পানি উঠায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ এবং এই সড়কের উভয় দিকে আটকা পড়েছে শতাধিক যানবাহন।

অন্যদিকে, বান্দরবানের পুলপাড়া সড়কের একটি ব্রিজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সড়ক যোগাযোগ বুধবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে ওই পথের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ।

নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় সংবাদকর্মী শামীম ইকবাল জানান, নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যার পাশাপাশি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ঘরবন্দি রয়েছে স্থানীয়রা।

অপরদিকে, নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে জেলার ৭টি উপজেলায় প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর ও উজানীপাড়া এলাকার নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে বান্দরবান সদরে ৫টি এবং উপজেলাগুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এছাড়া থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে জেলার রুমা, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ২০১২ সালে বর্ষা মৌসুমে জেলার লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৮ জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০ জন মারা যায়। আহত হয় কমপক্ষে শতাধিক মানুষ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত