টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আট দিন পর ফেরত আসছেন রাজ্জাক

Bgb Razzaচট্টগ্রাম, ২৫ জুন (সিটিজি টাইমস):  অপহৃত বিজিবি নায়েক আব্দুর রাজ্জাককে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপি।

দীর্ঘক্ষণ পতাকা বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজিবি প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সঙ্গে রাজ্জাকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র এবং গুলিও ফেরত দিয়েছে বিজিপি।

গত ১৭ জুন বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে আব্দুর রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এরপর তাদের ওয়েবসাইটে রাজ্জাকের হাতে শেকল বাধা নির্যাতনের ছবি প্রকাশ করে মিয়ানমার, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

অবশেষে দুই দেশের চিঠি আদান-প্রদানের পর মিয়ানমারের মংডুতে বৃহস্পতিবার পতাকা বৈঠক হয়। সেখানেই আট দিন পর বিজিবি নায়েক আব্দুর রাজ্জাককে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটি দিয়ে কোস্ট গার্ডের দুটি হাইস্পিড বোটে বিজিবির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল মংডু যায়। এই দলের নেতৃত্ব দেন টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ।

সেখানে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবির প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকে বিজিবি নায়েক আব্দুর রাজ্জাকের নির্যাতন করে শেকল পরা ছবি প্রকাশের নিন্দা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গত ১৭ জুন আব্দুর রাজ্জাককে অপহরণ করেছিল। ওইদিন ভোরে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল নায়েক রাজ্জাকের নেতৃত্বে নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল।

তারা বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি করছিলেন। এ সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির সদস্যরা একটি ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে।

একপর্যায়ে বিজিপির সদস্যদের বহনকারী ট্রলারটি বিজিবির টহল নৌযানের কাছে এসে থামে। বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয়।

বিজিবির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিজিপির ট্রলারটি রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়।

মিয়ানমারের অভিযোগ, আব্দুর রাজ্জাক তাদের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করেছেন।
রাজ্জাককে অপহরণের পর অত্যাচার করে তার হাতকড়া পরানো ছবি বিজিপির ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের ছবি প্রচারের তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত