টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়া লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে বন্যা

saচট্টগ্রাম, ২৫ জুন (সিটিজি টাইমস): কয়েক দিনের একটানা প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার তিন লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শঙ্খ ও ডলু নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র আকার ধারণ করেছে শঙ্খ ও ডলু নদীর ভাঙন। বন্যা কবলিত এলাকার রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার কেওঁচিয়া, জনার কেওঁচিয়া, তেমুহনী, বাজালিয়া, মাহালিয়া, বড়দোয়ারা, কাটাখালির কূল, পশ্চিম বাজালিয়া, হিন্দু পাড়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, কাঠগড়, নলুয়া, খাগরিয়া, পশ্চিম আমিলাইষ, পূর্ব আমিলাইষ, হিলমিলি, কাঞ্চনা, দক্ষিণ চরতি, মধ্যম চরতি, উত্তর ব্রাহ্মণডেঙ্গা, উত্তর তুলাতলি, দক্ষিণ ব্রাহ্মণডেঙ্গা, দ্বীপ চরতি, কাঞ্চনা, সোনাকানিয়া, এওঁচিয়া, পশ্চিম ঢেমশা, ঢেমশা, মরিচ্যা পাড়া, উত্তর ঢেমশা, বিল্লাপাড়া, ছগীর মোহাম্মদ পাড়া, বড়ুয়াপাড়া, হিন্দুপাড়া, উত্তর ছদাহা, লোহাগাড়ার চুনতি, বড়হাতিয়া, কলাউজান, পদুয়া ও চন্দনাইশের ধোপাছড়ি, দোহাজারী, বৈলতলী, বরমা, হাশিমপুর ও বরকল এলাকার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় এসব এলাকার অনেক মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

saবন্যা কবলিত এলাকার বেশির ভাগ ঘাট রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে মৎস্য খামারের কয়েক কোটি টাকার মাছ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক স্কুল ও মাদ্রাসায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

সাতকানিয়ার আমিলাইষ ইউ পি চেয়ারম্যান সারোয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার এলাকার প্রায় ১৫ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে পশ্চিম আমিলাইষ, পূর্ব আমিলাইষ ও হিলমিলি এলাকার প্রায় শতাধিক বসতঘর শঙ্খ ও ডলু নদীতে হারিয়ে গেছে। বসতবাড়ি হারানো মানুষ গুলো অত্যন্ত মানবেতর দিন যাপন করছেন।

ঢেমশার চেয়ারম্যান রমজান আলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ জানান, তার এলাকার প্রায় বিশ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দী। এসব এলাকার রাস্তা-ঘাটও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘরে পানি প্রবেশ করায় অনেকে মঙ্গলবার রাতে সেহেরি খেতে পারেনি। চরতির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, তার এলাকার প্রায় ত্রিশ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দী। গত দুই দিনে দক্ষিণ চরতী, মধ্যম চরতী, উত্তর তুলাতলী, ব্রাহ্মণ ডেঙ্গা এলাকার শতাধিক বসতবাড়ি শঙ্খ নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে।

লোহাগাড়ার পদুয়ার চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী জানান, আধারমানিক, ধলিবিলা, জঙ্গল পদুয়া, মালি পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় বিশ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চুনতির চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, তার এলাকারও প্রায় পনের হাজারের অধিক লোক পানিবন্দী রয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় কোনো প্রকার সরকারি সাহায্যে পৌছেনি। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে বসতবাড়ি ছাড়াও চন্দনাইশ-সাতকানিয়া এলাকার কয়েক হাজার একর সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, দিয়াকুল, জামিজুরী, চাগাচর, বরমা, বাইনজুরী, ১০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর গ্রামের প্রবীণ কৃষক আনু মিয়া জানান, অধিক লাভের আশায় তিনি ২ একর বর্গা জমিতে বর্ষাকালীন সবজির চাষ করেছে। লাভের আশাতো দূরের কথা তার প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ রকম চন্দনাইশ-সাতকানিয়া এলাকার শত শত কৃষকের সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ২০ কিঃ মিঃ পাকা ও কার্পেটিং সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। উপজেলা সদরে অফিস-আদালতগুলোতেও বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাঁটু পরিমাণ পানিতে অফিস করছে বলেও জানা যায়।

চন্দনাইশের দোহাজারী চেয়ারম্যান বলেন,’চাগাচর এলাকার প্রায় দেড় শ’ বসতবাড়ি শঙ্খ নদীতে হারিয়ে গেছে। এসব মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।’

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। চরতী, আমিলাইষসহ কয়েকটি এলাকায় শঙ্খ নদীর ভাঙনে বেশ কিছু মানুষ বসত ঘর হারিয়েছে। এবিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে দুর্গত এলাকায় সাহায্যের ব্যবস্থা করা যায়।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত