টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিয়ানমার থেকে ফিরেছে আরো ৩৭ বাংলাদেশী

Myanmer
ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
মিয়ানমার উপকূলে উদ্ধার ২০৮ জন অভিবাসীর মধ্য থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৭ বাংলাদেশীকে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমার। ১৯ জুন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের উপারের টেকবনিয়া ক্যাম্পে অনুষ্টিত পতাকা বৈঠক হয়।
দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার এমএম আনিসুর রহমানের কাছে ৩৭ বাংলাদেশীকে হস্তান্তর করেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতুতে এসব বাংলাদেশীকে বুঝে নেন বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আনিসুর রহমান। এরপর বিজিবি প্রতিনিধি দল ফিরে আসা ৩৭ বাংলাদেশীকে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এনে বেলা ১ টার দিকে জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এসময় সাংবাদিকদের কর্নেল আনিসুর রহমান জানান, প্রথম দফায় ১৫০ জনকে ফেরত আনার পর দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার আরও ৩৭ বাংলাদেশীকে ফেরত আনা হয়েছে। এদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘গত বুধবার টেকনাফের নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্ট সীমান্তে বিজিবি-বিজিপির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গোলাগুলির ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া বিজিবি সদস্য নায়েক রাজ্জাকের বিষয়টি নিয়ে আজকের পতাকা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী।’
অপরদিকে মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং বলেন, ‘বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্তদের ফেরত আনায় আমরা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে দুদেশের সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। এ সু-সম্পর্কের মাধ্যমে সীমান্তে শান্তি বিরাজ করবে।’
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়ান উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ সরকার। মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট এর সহকারী পরিচালক মং থো।
এছাড়া ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম, বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের জি-২ মেজর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বিজিপি, মায়ানমারের কমান্ডিং অফিসার পুলিশ লেঃ কর্ণেল ক্যাই তুই জা ও মংডু ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট এর সহকারী পরিচালক স নেইংসহ  বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ইমিগ্রেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৮ জুন প্রথম দফায় ১৫০ জন শনাক্তকৃত অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিকে বিজিবির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই করে ১৫০ জনের মধ্যে এক দালালসহ দু’জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করে কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।
এ দিকে ফিরে আসা ৩৭ বাংলাদেশীর পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের ৪ জন, মাদারীপুরের ১ জন, সুনামগঞ্জের ৪ জন, কিশোরগঞ্জের ৮ জন, হবিগঞ্জের ১১ জন, জামালপুরের ১ জন ও বগুড়ার ৭ বাসিন্দা রয়েছে।
১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, গত ৮ জুন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমের ১৫০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বে প্রত্যাবাসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতো যাচাই করে শনাক্ত আরও ৩৭ বাংলাদেশীকে শুক্রবার ফেরত আনা হয়েছে। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ফিরে আসা ৩৭ বাংলাদেশী বর্তমানে পুলিশী হেফাজতে আছে। তাদের পরিচয় যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে মিয়ানমারের সমুদ্র উপকূল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয় ২০৮ জন অভিবাসী। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গত ৮ জুন সোমবার ১৫০ বাংলাদেশীকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন মিয়ানমার। বাকী ৫৮ জনের মধ্যে আরও ৩৭ জনকে বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে চিঠি দেয়। বিজিবি তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়।

মতামত