টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সিন্দুকছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্ধোধনকালে জিওসি

অবহেলিত জনপদে নিরীহ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করছে সেনাবহিনী

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

Guimara-news-pic-1চট্টগ্রাম, ১৭ জুন (সিটিজি টাইমস)::  খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার অবহেলিত জনপদ সিন্দুকছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বহুদিনের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনে অবশেষে ৪৫ লক্ষ টাকার ব্যয়ে নির্মিত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্ধোধন করেছেন ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। এ প্রকল্পটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তোফায়েল আহাম্মদ, পিএসসি, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়নক লে. কর্ণেল রাব্বি আহসান, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফাকুল নুমান, সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুইনুপ্রু চৌধুরী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পানীয় জলের সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা।

প্রধান অতিথি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য কেবল উপকার করার জন্য নয়, সেনাবাহিনী নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণের স্বার্থে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইহাটের দুর্গম এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিল খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সেনাবাহিনীর চিকিৎসা দল। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী শুধু এখানে নয়, সারা পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন মূলক কাজ ছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে এবং গরীব পরিবারের মাঝে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে সেবামূলক করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এ ধরণের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল রাব্বি আহসান বলেন, এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে পাহাড়ের ঝর্না ও খালের পানি ব্যবহার করার ফলে এ অঞ্চলের সাধারণ নিরীহ জনগন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৭শ জনের মৃত্যু হয়েছে। এলাকার জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গুইমারা রিজিয়নের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। প্রকল্পের আওতাধীন এলাকার পাহাড়ি-বাঙ্গালীর ৪৮৬টি পরিবারের ২৪২৮ জন সদস্য (প্রায়) উপকারভোগী হবে। এ প্রকল্পে বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি কৃষকের সেচ কাজে ও ব্যবহার করা হবে। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙ্গালীর ৪শতাধিক পরিবার বিশুদ্ধ খাবার পানি ও সেচ সুবিধা ভোগ করতে পারে। এছাড়াও কমপক্ষে ১৫জন বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুইনুপ্রু চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর শুকনা মৌসুমে নদী-নালা শুকিয়ে গেলে খাবার পানির সংকট দেখা দেয় আর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় এলাকায় জুমক্ষেতে জুমিয়ারা বিভিন্ন কীটনাশক ও ঘাস মারার ্ঔষুধ ব্যবহারের ফলে এ ওষুধ বৃষ্টির পানিতে ঝর্ণা বা নালার পানিতে মিশে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে এ পানি ব্যবহারের ফলে মানুষের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। সেনাবাহিনী মাধ্যমে নির্মিত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী নিরাপত্তার পাশাপাশি জনস্বার্থে সেবামূলক এ ধরণের কাজগুলো খুবই প্রশংসার দাবী রাখে।

সুবিধাভোগী সঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, প্রতিবছর এলাকায় খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে ঝর্ণা ও নালার পানি পান করে আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতাম। বর্তমানে সেনাবাহিনীর কারণে আজ আমরা বিশুদ্ধ খাবার পানির সুবিধা পেলাম।

পরে প্রধান অতিথি জিওসি মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান, এসপিপি গুইমারা কলেজ ও গুইমারা রিজিয়ন স্পোর্টস কমপ্লেক্স উদ্ধোধন করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তোফায়েল আহাম্মদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্যজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল রাব্বি আহসান, মানিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ¤্রাগ্য মারমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শহিদুল ইসলাম ফরহাদ, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফাকুল নুমান, মাটিরাংগা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বকাউল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত