টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোরিয়ান ইপিজেডের দুই হাজার একর জমি ফেরত নেবে সরকার

kpzচট্টগ্রাম, ১৯ জুন (সিটিজি টাইমস):: কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) আড়াই হাজার একর জমির মধ্যে দুই হাজার একর জমিই ফেরত নেবে সরকার। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশনের মালিকানাধীন কেইপিজেড যে ৫০০ একর জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন করেছে, তা ওই কোম্পানিটির নামেই থাকবে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভূমি ব্যবহার কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মধুমতী নদীর জরিপকাজ করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিয়োগে প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দের অনুরোধ করেন। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ ৫০০ একর জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান করেছে, বাকি দুই হাজার একর জমি ফেলে রেখেছে।

কেইপিজেডের জমি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১২ (আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া) আসনের সাংসদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কেইপিজেডের দুই হাজার একর জমি ফিরিয়ে নেওয়াসহ বেশ কিছু ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আরেকটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সভার সিদ্ধান্তও কার্যবিবরণীতে সই করেছেন গত ২৬ এপ্রিল। এর তিন দিন পর সভার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এফবিসিসিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়সংলগ্ন জমিতে নির্মিত যমুনা রিসোর্ট ইজারা নিয়েও ইজারাদার তেমন কিছু করেনি, ইজারার অর্থও ঠিকমতো দেয়নি। তাই যমুনা রিসোর্টের জায়গাও একইভাবে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। উল্লেখ্য, যমুনা রিসোর্টের জায়গা ইজারা নিয়েছে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

কেইপিজেড সূত্রে জানায়, কেইপিজেডের এ জমির জন্য সর্বোচ্চ মৌজা দর অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধ করা হলেও ১৫ বছরে এসব জমির নিবন্ধন ও নামজারি করে দেয়নি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। দেড় বছর আগে ৫০০ একর জমি নিবন্ধন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে কেইপিজেডকে দলিল পাঠানো হয়। তখন কর্তৃপক্ষ ওই নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানায়। তারা আঙাই হাজার একর জমি একসঙ্গে নিবন্ধন করার ইচ্ছার কথা জানায়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আগের জেলা প্রশাসকের সময়েই তাদের ৫০০ একর জমি নিবন্ধনের দলিল পাঠানো হয়। কিন্তু তারা একসঙ্গে সবগুলো জমির নিবন্ধন নিতে চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, প্রথমে ৫০০ একর দেওয়া হবে। অবশিষ্ট জমি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্তহবে।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি, স্যামসাংসহ ১০টি কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করতে এসেছিল। কিন্তু সরকার কেইপিজেডের নামে জমির নামজারি করে দেয়নি। আর বিদেশি কোম্পানিগুলো কেইপিজেডের নামে নামজারি ছাঙা সেখানে বিনিয়োগ করতে চায় না। ফলে জমিসংক্রান্ত এ জটিলতায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ না করে ফিরে যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের পর কেইপিজেড স্থাপনের চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান লিমিটেড এ ইপিজেড স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন নেয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত