টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য নির্বাচন: পূর্ণতা পেল উপজেলা পরিষদ

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেল উপজেলা পরিষদ। ১৫ জুন সোমবার সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হল নারী আসনের এ নির্বাচন। নির্বাচনে জেলার কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা:
কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসন- ১ (ইসলামপুর, ইসলামাবাদ ও ঈদগাহ)-এর ‘মহিলা সদস্য’ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের তিন তিন বারের সফল মহিলা মেম্বার (৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড) ও সাবেক মেম্বার এম. আনছার উল্লাহর সহধর্মিনী রেহেনা ইয়াছমিন ছিদ্দিকা । তিনি পান ২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ফাতেমা জান্নাত পেয়েছেন ১০ ভোট।
সংরক্ষিত আসন-২ (চৌফলদন্ডী, পোকখালী, জালালাবাদ) এ ২১ ভোট পেয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বদিউল আলম আমীরের সহ-ধর্মীনি সাবিনা ইয়াছমিন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী সেতারা বেগম পান ৮ ভোট।
সংরক্ষিত আসন-৩ (খুরুশকুল, পিএম খালী, ভারুয়াখালী) এ ২১ ভোট পেয়ে মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পিএম খালীর মহিলা মেম্বার জাহেরা বেগম। তার নিকটতম প্রার্থী শামসুন্নাহার পেয়েছেন ৮ ভোট।
সংরক্ষিত আসন- ৪ (কক্সবাজার পৌরসভা ও ঝিলংজা) এ নির্বাচিত হন ঝিলংজার জনপ্রিয় মহিলা মেম্বার খালেদা মেহবুবা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কক্সবাজার পৌর কাউন্সিলর চম্পা উদ্দিন ১০ ভোট পান।
চকরিয়া উপজেলা:
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য নির্বাচনে ১নম্বর আসনে (ডুলাহাজারা, ফাসিয়াখালী ও খুটাখালী ইউনিয়ন) খুটাখালী ইউপির নারী সদস্য আনোয়ারা ইসলাম নির্বাচিত হন। ২নম্বর আসনে (কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন) কাকারা ইউপির নারী সদস্য মুরশিদা আক্তার ৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৩ নম্বর আসনে (বরইতলী, কৈয়ারবিল ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন) বরইতলী ইউপির নারী সদস্য জন্নাতুল ফেরদৌস ঝর্না ৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৪ নম্বর আসনে (চকরিয়া পৌরসভা ও সাহারবিল এবং চিরিঙ্গা ইউনিয়ন) পৌরসভার নারী কাউন্সিলর রাশেদ বেগম ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৫ নম্বর আসনে (পুর্ববড় ভেওলা, বদরখালী ও পশ্চিমবড় ভেওলা) পুর্ববড় ভেওলা ইউপির নারী সদস্য হুমায়রা বেগম। ৬ নম্বর আসনে (বিএমচর, কোণাখালী ও ঢেমুশিয়া) বিএমচর ইউপির নারী সদস্য জোসনা আক্তার।
পেকুয়া উপজেলা:
পেকুয়ায় ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২টি ব্লকে নির্বাচিতরা হলেন- শিলখালীর মর্জিনা বেগম ও মগনামার হাসিনা বেগম। দুই উপজেলার ৮ ব্লকে নির্বাচিতরা নিজ নিজ ব্লকের উন্নয়ন কাজসহ জনসমস্যা লাগব এবং নারীদের দুর্দশা সমাধানে তদারকি করবেন।
মহেশখালী উপজেলা:
মহেশখালী উপজেলার সংরক্ষিত আসন-১ (মাতারবাড়ী, ধলঘাট, কালারমারছড়া) এ ৮ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার রেহেনা বেগম। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বি কালারমারছড়ার ২ মহিলা মেম্বার মিনুয়ারা ও মোকাররমা ৭ ভোট করে পেয়েছেন।
সংরক্ষিত আসন-২ (বড় মহশখালী, শাপলাপুর ও হোয়ানক) এ ১১ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মনোয়ারা বেগম। তার নিকটতম প্রার্থী বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শিরিন ফারজানা পেয়েছেন ৯ ভোট।
মহেশখালী উপজেলার ৩ নং আসনে (কুতুবজোম, পৌরসভা, ছোট মহেশখালী) ১৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কুতুবজোম ইউপির ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার হোসনে আরা বেগম। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বি নার্গিস আক্তার ৫ ভোট পেয়েছেন।
কুতুবদিয়া উপজেলা:
কুতুবদিয়া সংরক্ষিত আসন নম্বর-১ (উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং ও লেমশীখালী) এ শাফিয়া আখতার ৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
সংরক্ষিত আসন নম্বর-২ (কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইল) এ ফরিজা বেগম ৯ ভোটে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্যের নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন হলদিয়াপালং ইউপি সদস্য রোকেয়া খানম (১১ ভোট) এবং পালংখালী ইউপি সদস্য (৮ ভোট)।
টেকনাফ উপজেলা:
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে ৫ প্রার্থী নিবার্চন করেন। সংরক্ষিত ১নং আসনের প্রার্থী রাশেদা বেগম (টেবিল) ১০ ভোট ও ২নং আসনের প্রার্থী সানজিদা বেগম (টেবিল) ১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, কোনো উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা, সেই উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার মোট নারী সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের সমান। সেসব নারী সদস্যদের মধ্য থেকে তারাই প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলার সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, এর আগে দেশে তিন তিন বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে কখনো নির্বাচন হয়নি। ফলে সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সব মহল থেকেই উপজেলা পরিষদকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেওয়ার দাবি উঠেছিলো। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নির্বাচনের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করে। এরইমধ্যে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেরও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে। অবশেষে সংরক্ষিত আসনে ভোট হওয়ার মধ্য দিয়েই স্থানীয় এ সরকার ব্যবস্থাটি পূর্ণতা পেল।

মতামত