টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফলোঅন লজ্জা নিয়ে ড্র-ই করল বাংলাদেশ

spচট্টগ্রাম, ১৪ জুন (সিটিজি টাইমস)::  দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভারত বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে রাজি হয়। একমাত্র টেস্টের বিরল সূচিতে তারা আসে। ভরা বর্ষা মৌসুমে কাঙিক্ষত ফল ড্র-ই হয়েছে।

টেস্ট মানে পাঁচ দিনে কমপক্ষে ৪৫০ ওভার খেলা। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টেস্টে মোট খেলা হয়েছে ১৮৪.২ ওভার। এর মধ্যে ভারত খেলেছে ১০৩.৩ ওভার। আর বাংলাদেশ ৮০.৫ ওভার। ওভার নষ্ট হয়েছে ২৬৫.৪ ওভার। অর্ধেক ওভারও খেলা হয়নি।

ফলে একমাত্র টেস্টে কাঙ্ক্ষিত ফল ড্র-ই করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে এর আগে তাদের ফলোঅন লজ্জায় পড়তে হয়েছে।

এমনিতে ভরা বর্ষায় সূচি নিয়ে শুরুতেই সমালোচনা ছিল। সেটি বাড়িয়ে দেয় প্রথম দিনের বৃষ্টি। পরিত্যক্ত হয় ওইদিনের অর্ধেক ওভারের খেলা। দ্বিতীয় দিন একটি বলও গড়ায়নি। এরপরের দুদিনও দিনের বড় একটা সময় খেলা হয়নি।

আর শেষ দিনে শুরুতে খেলা হয়নি দুপর পৌনে একটা পর্যন্ত। এরপরও ফতুল্লার রান প্রসবা উইকেটে শেষ দিনে ভালো তামাশা হয়েছে।

স্বাগতিক বাংলাদেশ মাত্র ২৫৬ রানে গুটিয়ে তাদের প্রথম ইনিংস শেষ করে। ৬৫.৫ ওভারে তারা এই রান করলে মাত্র ৫ রানের জন্য ফলোঅনের লজ্জা মেনে নিতে বাধ্য হয়।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস কোনো অঘটন ঘটতে দেননি। ১৫ ওভারে ২৩ রান করলে দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নিতে বাধ্য হন। তামিম ১৬ এবং ইমরুল ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

ফতুল্লা টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন রবিবার মধ্যাহ্ন বিরতির পর বেলা পৌনে একটায় খেলা শুরু হয়। শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন সাকিব আল হাসান। অশ্বিনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি, ৯ রান করে।

এরপর ইমরুল আর সৌম্য সরকার দলের হাল ধরেন। ৫১ রানের এই জুটি ভাঙেন হরভাজন সিং, দলীয় ১৭২ রানে। তিন রান বাদেই বরুণ অরুণ সরাসরি বোল্ড করেন সৌম্য সরকারকে।

ফলে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। ইমরুল ৭২ রান করে হরভাজনের বলে স্ট্যাম্পিং হন। ১৩৯ বলের ইনিংসে ইমরুল ১২টি বাউন্ডারি মেরেছেন। তিনি সৌম্য সরকারের সঙ্গে দারুণ একটা জুটি গড়ে তোলেন।

তবে ইমরুলের আউটের পরপরই সৌম্য বোল্ড হন ৩৭ রান করে। ৫৪ বলের ইনিংসে তিনি ৭টি চার মেরেছেন। সেখান থেকে শুভাগম হোম চৌধুরী আর অভিষিক্ত লিটন কুমার দাস দলের হাল ধরেন। ৪৩ রানের এই জুটি ভাঙেন অশ্বিন। তার বলে রোহিত শর্মার তালুবন্দি হওয়ার আগে শুভাগত করেন ৯ রান।

এরপর দলীয় ২৩২ রানে লিটন দাসকে তুলে নেন অশ্বিন। এটি তার পঞ্চম শিকার। লিটন ৪৫ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করেন। দলীয় ২৪৬ রানে মোহাম্মাদ শহীদকে ধাওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হরভাজন।

আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যুবায়ের হোসেন রান আউট হন দলীয় ২৫৬ রানে। অপরপ্রান্তে ১৬ রানে অপরাজিত থাকলেও তাইজুল ইসলাম দলকে ফলোঅনের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারেননি।

ভারতের পক্ষে রবিচন্দন অশ্বিন ৮৭ রানে ৫টি এবং হরভাজন সিং ৬৪ রানে ৩টি উইকেটে তুলে নেন। একটি উইকেট পান বরুণ অরুণ।

গতকাল শনিবার বৃষ্টির জন্য লাঞ্চ বিরতির পর ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতির আগে টাইগাররা তাদের প্রথম ইনিংসে ৩০.১ ওভার ৩ উইকেটে ১১১ রান করে।

টেস্টের শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা খেলা বন্ধ থাকে। টেস্টের প্রথম ও তৃতীয় দিন কিছু সময়ের জন্য খেলা হলেও বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনে একটি বলও গড়ায়নি।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ভারত ৬ উইকেটে ৪৬২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। সেঞ্চুরি করেছেন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও মুরালি বিজয়। ধাওয়ান ১৭৩ এবং বিজয় ১৫০ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান চারটি এবং যুবায়ের হোসেন দুটি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন ভারতের শিখর ধাওয়ান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত