টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙামাটিতে তিন ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

CHT-paharচট্টগ্রাম, ১৩ জুন (সিটিজি টাইমস):: রাঙামাটির লংগদুতে প্রতিপক্ষের ব্রাশ ফায়ারে অন্তত ৩ জন ইউপিডিএফ কর্মী নিহত হয়েছে। রোববার ভোররাতে লংগদু উপজেলাধীন ভাইবোন ছড়া এলাকার গোল্লাছড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলো-অনিক চাকমা (৩০), সুমন চাকমা (২৮) ও সুজয় চাকমা (৩৫)। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে এবং একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সিএইচটি টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সন্তু লারমার সশস্ত্র গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

ইউপিডিএফ সূত্র  জানিয়েছে, ভাইবোন ছড়া এলাকার গোল্লাছড়ি গ্রামের একটি বসতঘরে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী দলীয়কাজে গিয়ে রাতে অবস্থান করছিলো।

রোববার ভোরে সেখানে উপস্থিত হয়ে আকস্মিকভাবেই হামলা চালিয়ে একাধারে ব্রাশ ফায়ার করতে থাকে জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই চার ইউপিডিএফ কর্মী নিহত হয়।

এই ঘটনায় সন্ত্রাসীরা উক্ত ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা তিনজন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র অবস্থায় গ্রামে প্রবেশ করে ব্রাশ ফায়ার চালালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে তিনজন নিহত হওয়ার কথা তিনি জানতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় জেএসএস সন্ত্রাসীরা যে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সেটিতে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশু ছিলো। তাদেরকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অপরদিকে এই ঘটনার সাথে নিজেরা জড়িত নয় বলে গনমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন জেএসএস নেতা সজীব চাকমা। তিনি দাবি করেন অর্ন্তকোন্দলেই ইউপিডিএফ এর কর্মীরা নিহত হয়েছে।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, গোল্লাছড়ি এলাকাটি ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত। বিগত কয়েকমাসে উক্ত এলাকাটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে জেএসএস।

এর আগেও সেখানে প্রায় সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোররাতে কোনো প্রকার আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই উক্ত গ্রামে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করে জেএসএস।

এই ঘটনায় কোনো প্রকার আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই বেকায়দায় পড়ে ইউপিডিএফ এর কর্মীরা। পরে তাদেরকে একটি ঘরের মধ্যেই ঘেরাও করে ফেলে জেএসএস এর গ্রুপটি।

এসময় উভয় পক্ষই বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ঘরের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন ইউপিডিএফকর্মী নিহত হয়। পরে জেএসএস সন্ত্রাসীরা উক্ত বসত ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিজেরা সটকে পড়ে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত