টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চবি শিক্ষকের যৌন কেলেঙ্কারি; ২২ দিনের তদন্ত শেষ হয়নি ৫০ দিনেও

cu-eduচট্টগ্রাম, ১৩ জুন (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র ও মৎস্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষকের কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ওই ইনস্টিটিউটেরই এক ছাত্রী।

এ বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল ইনস্টিটিউটের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

বিষয়টি তদন্তে গত ২২ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তের জন্য ২২ দিন সময় নেন কমিটির সদস্যরা।

কিন্তু ২২ দিনের তদন্ত ৫০ দিনেও শেষ করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল ইসলাম সরকারের সাথে তদন্ত কর্মকর্তাদের এক ধরনের ‘সমঝোতা’ থাকার কারণে মাঝপথে আটকে আছে তদন্ত কমিটির কাজ। এতে কমিটির সদস্যরা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

শুধু তাই নয় অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিতে তদন্ত কমিটিতে থাকা চবির সহকারী প্রক্টর অরুপ বড়ুয়াকে প্রশাসন অনৈতিক আবদারে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এর ফলে ওই তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছিলেন তদন্ত কমিটির এই সদস্য।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অরুপ বড়ুয়া প্রথমে নিজের কাজের ব্যস্ততা কারণে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বললেও পরে তিনি বলেন, ‘আসলে অনৈতিক আবদারের বিষয়টি আমি প্রশাসনকে সরাসরি না করে দিয়েছি।’

কি কারণে এই তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কি কারণে অব্যাহতি নিয়েছি তা বলা যাবে না। কিছু কারণতো আছেই।’

জানা যায়, আবাসন সংকট নিরসনের জন্য ইনস্টিটিউটের প্রভাষক ও প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষকের (সাইদুল ইসলাম সরকারের) নিকট একটি আসনের জন্য অনুরোধ করতে গেলে ওই শিক্ষক নানা প্রলোভন দেখায় এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলে। কুপ্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে ইনস্টিটিউট থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয় ওই ছাত্রীকে।

বিষয়টি মৌখিকভাবে ইনস্টিটিউটের পরিচালককে জানানোর পর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলে বেড়ানোরও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পাশাপাশি ওই শিক্ষক তাকে জীবননাশের হুমকি দেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এর ফলে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে, নিজের ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান মো.জাকির হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সদস্য অরুপ বড়ুয়ার কারণেই এতোদিন তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি হয়েছে। তিনি যদি সময় দিতেন তাহলে আরও অনেক আগে এই প্রতিবেদন দিতে পারতাম। আশা করছি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমি শুনেছি তদন্ত প্রতিবেদন অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে যাওয়ার জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা রয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগী ছাত্রী ন্যায় বিচার পাবে না।’- বাংলামেইল

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত