টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামেও সেরা ক্যামব্রিয়ান কলেজ

cccডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পুরণে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক দ্বার উম্মোচনের মাধ্যমে ঢাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজ এখন পা রেখেছে চট্টগ্রামে। গত শিক্ষা বছর (১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) থেকে একাদশ শ্রেণি’তে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের হালিশহর ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করেছে দেশের অন্যতম এই বিদ্যাপিঠ।

ক্যামব্রিয়ান কলেজ হালিশহর ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ লায়ন মাহবুব হাসান লিংকন সিটিজি টাইমসকে জানান, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি’তে অধ্যয়নরত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে রয়েছে ৬টি সুবিশাল ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষ। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে বসানো হয়েছে স্মার্ট বোর্ড, এসি, সিসি ক্যামেরা।এছাড়া বিজ্ঞানাগারসহ রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব এবং অনলাইন লাইব্রেরী।

কলেজ অধ্যক্ষ লায়ন মাহবুব হাসান সিটিজি টাইমসকে জানান, নগরীর হালিশহর আবাসিক এলাকায় বড়পোল সংলগ্ন জি ব্লকের ৪ নাম্বার রোডে প্রসস্থ জায়গায় পুরো নয়তলা ভবন জুড়ে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম এ ক্যামব্রিয়ান কলেজ।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ঢাকার মতো ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজানো হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে।

সুত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ, তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষা উপকরণ, সেবা, শ্রেণি কক্ষ ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বে সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, সৃজনশীল প্রশ্ন প্দ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। এ ছাড়াও শিক্ষকদের মান উন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়।
কলেজ অধ্যক্ষ লায়ন মাহবুব হাসান লিংকন জানান, শিক্ষার্থীদের হাতে আমরা একটি ল্যাপটপ সহ শিক্ষার সব উপকরণ তুলে দিয়েছি। যেখানে পাঠ্যপুস্তকসহ রয়েছে সব বিষয়ের সহায়ক বই, নোট, লেকচার শিট, লেকচার প্ল্যানসহ চার ধরনের ডিকশনারি এবং ইন্টারনেট ইংলিশ টকার।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, পুরো শিক্ষা কাঠামোকে একটি ছোট্ট ল্যাপটপে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগ সর্ব প্রথম নিয়েছি আমরা। শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষাকে আনন্দময়, উপভোগ্য ও যুগ-উপযোগী করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

একটি অনুকরণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএসবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ লায়ন এমকে বাশার পিএমজেএফ বলেন, শিক্ষার মধ্যে জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজতে হবে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলানোর জন্য গড়ে তুলেতে হবে।

ক্যামব্রিয়ান কলেজ পুরো দেশের জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,বিএসবি ফাউণ্ডেশন ক্যামব্রিয়ান কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেবা করতে এসেছে।

দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা করে মাত্র ৯ বছরে শীর্ষস্থান দখল করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই কলেজ এক সময় পুরো দেশের জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত হবে।

cc1প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণে ক্যামব্রিয়ান কলেজ কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বের অগ্রযাত্রার মূল ভূমিকায় রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি।

শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন. ক্যামব্রিয়ান কলেজের প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে যোগ্যতাসম্পন্ন এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষক-যারা একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঠদান ও পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, পাঠদানে সেবার মান অক্ষুন্ন রাখার কারণে একমাত্র ক্যামব্রিয়ান কলেজই পরপর দুইবার ISO 9001:2000 এবং ISO 9001:2008 সনদ অর্জন করেছে এবং UK-এর ASIC কর্তৃক প্রিমিয়ার ক্যাটাগরিতে Accreditation প্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ কলেজ ফলাফলের ক্ষেত্রে পর পর ৭ বার ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থানসহ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে দাবি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, সর্বশেষ ২০১৪ সালে এই কলেজ ঢাকা বোর্ডেও মেধা তালিকায় ১০ম স্থান অধিকার করেছে।

শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পাঠদানের পদ্ধতির কারণে পড়ালেখার পরিবেশের সন্তুষ্টি জানিয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো: ইয়াসিন আরাফাত জানান, নিজেকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ক্যামব্রিয়ানের কোনো বিকল্প নেই।

অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ ও কলেজ হতে ছুটির সময় ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে অভিভাবকের মোবাইলে ‘এসএমএস’ দিয়ে জানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও কেউ অনুপস্থিত থাকলে বাসায় ফোন করে তার খোজ খবর নেয়া হয়। নিয়মিত, সাপ্তাহিক, টার্মসহ সকল পরীক্ষার ফলাফলের নোটিশ ‘এসএমএস’ এর মাধ্যমে অভিভাবকরা এবং শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকে।

অভিভাবকরা আরও জানান, বিকাল হতে রাত ৯ টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসেই শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট দিয়ে থাকেন যার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ফি নেয় না। অভিভাবকবৃন্দ তার সন্তানকে এই কলেজে ভর্তি করাতে পেরে আনন্দিত বলে মনে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শিক্ষার উন্নত ব্যবস্থাপনা, পাঠদান পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে নগরীর বিএফ শাহীন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে চলতি শিক্ষা বছরে ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছেন নগরীর হালিশহর কে ব্লকের শিক্ষার্থী মোঃ রাশেদ ইসলাম (রোল জিএইচএসবি-১৪০১৬৮), রাকেশ কর্মকার (রোল জিএইচএসবি-১৪০১৭০) ও প্রিটন সরকার (রোল জিএইচএসবি-১৪০১৬৯) নামে তিন শিক্ষার্থী।

cc2তাদের মতো এমন ১৯ জন শিক্ষার্থী নগরীর বিভিন্ন কলেজ থেকে টিসি নিয়ে উন্নত শিক্ষা,সেবা ও স্কলারশীপ পাওয়ার প্রত্যাশায় ক্যামব্রিয়ান কলেজে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কলেজের একাদশ শ্রেণি’র ছাত্র রাশেদ ইসলাম। যার মধ্যে নগরীর বিএফ শাহিন কলেজের ৫জন ও আবু তোরাব কলেজের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছে।

হাজারো শিক্ষার্থীকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের বিভাগীয় শহর গুলোতে কলেজ প্রতিষ্ঠা করে চলেছে বিএসবি ফাউণ্ডেশন। তাদের এই কর্মযজ্ঞে সর্ব শেষ যোগ হয়েছে ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাস।

শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও পাঠদান পদ্ধতির কারণে পড়া লেখার পরিবেশে সন্তুষ্টি জানিয়ে ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ রাশেদ ইসলাম আরও জানান, অন্যান্য বেসরকারী কলেজ থেকে ক্যামব্রিয়ান কলেজ অনেক বেশী আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এবং শিক্ষকরা অনেক আন্তরিক ভাবে আমাদের পাঠদান দিয়ে থাকেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত