টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ: পূর্বাভাস না জানায় হতাশ জেলেরা

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

haldaচট্টগ্রাম, ১২ জুন (সিটিজি টাইমস)::  এশিয়ার অন্যতম প্রকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে গতকাল ভোরে দ্বিতীয় দফায় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহকারীরা নদীর বিভিন্ন স্পটে নৌকা ও জাল নিয়ে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার জন্য নদীতে অপেক্ষা করে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শুক্রবার ভোরে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়লে শত শত ডিম সংগ্রহকারী নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেন। তবে পূর্বাভাস না জানায় অনেক জেলেরা নদীতে অবস্থান না করায় এবার গতবারের ছেয়ে কম ডিম সংগ্রহ হয়েছে।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার সময় থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সময়ে হাটহাজারীর মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনা, গড়দুয়ারা, রাউজান পশ্চিম গহিরা, কাগতিয়া, মোবারকখীল, আজিমের ঘাট, কাসেম নগর হ্যাচারীতে ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর ডিম সংগ্রহকারীরা নদীর তীরে মাটির কুয়ায় ও হ্যাচারীতে ডিম ফুটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে এবার বেশি ডিম সংগ্রহ হয়েছে আজিমের ঘাট থেকে কাসেম নগর বাকের মধ্য।

কাসেম নগর ও আজিমের ঘাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মো.ইলিয়াছ জানান, পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় পর্যাপ্ত ডিম সংগ্রহ হয়নি। তবে তিনি এবার ৪০ কেজি ডিম (১৯ বালতি) আহরন করেছে। একইভাবে বললেন ডিম সংগ্রহকারী এমরান, খোরশেদ তারাও এবার প্রায় ১৫০ কেজি ডিম আহরন করেন।
একই এলাকার আজিম তালুকদারের বাড়ীর নুরুল আজিম জানান, পূর্বে না জানায় তিনি এবার ডিম সংগ্রহ করতে নদীতে নামে নি।

হালদা পাড়স্থ পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ বলেন, এলাকার সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমিপ’র নির্দেশে মানুষ যেন নিরাপদে ডিম সংগ্রহ করতে পারে সেই জন্য তদারকি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের অসুবিধার সংবাদ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা। এয়াড়াও কেউ যেন মা মাছ না ধরে সেই দিকেও নজর রাখা হয়েছে।

রাউজানের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী সাধন বড়ুয়া জানান শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হালদা নদী থেকে চারটি নৌকা দিয়ে তিনি চার বালতী ডিম সংগ্রহ করেছেন। পরিদর্শনে ডিম সংগ্রহকারী সাধন বড়ুয়া ও তার পুত্র বিতান বড়ুয়া পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা এলাকায় সংগ্রহ করা ডিম নদীর তীরে মাটির কুয়ায় ডিম ফুটানোর কাজে ব্যস্ত দেখা যায়।

জানাযায়, এবৎসর প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছের ডিমের নমুনা ছাড়ে গত ২০ এপ্রিল। নমুনা ডিম ছাড়ার পর যে কোন সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে এই আশায় শত শত ডিম সংগ্রহকারী নৌকা ও জাল নিয়ে ডিম সংগ্রহের প্রতিক্ষায় ছিল। কয়েকদপে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে গত ২১ এপ্রিল হালদা নদীতে মৌসুমের মধ্যে প্রথমবারের মতো মা মাছ ডিম ছাড়ে। প্রথমবার রাউজান হাটহাজারী ডিম সংগ্রহকারীরা যে পরিমাণ ডিম নদী থেকে সংগ্রহ করেন সেই ডিম থেকে ৬০ কেজি রেনু উৎপাদন করে। ডিম সংগ্রহকারী কাগতিয়ার সুবল জলদাশ জানান, প্রতি কেজি রেনু ৬০ হাজার টাকা করে বিক্রয় করেছে।

উপজেলা মৎস অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান, দ্বিতীয় দফায় হালদা নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে সংগ্রহকারীরা ২শত বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত ২শত বালতি ডিম থেকে ৪০ থেকে ৫০ কেজি রেনু উৎপাদন হবে বলে তার ধারনা।

এদিকে হালাদা থেকে ডিম সংগ্রহের পর হালদা পাড়ে পরিদর্শনে যান ইউপি চেয়াম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ, আ’লীগ নেতা এম.এস.আজম খান, রাউজান প্রেস ক্লাব সভাপতি তৈয়ব চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম লিটন, আবু তাহের, টনি বড়ুয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মতামত