টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন্দরনগরীতে রোববার থেকে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান

paharচট্টগ্রাম, ১২ জুন (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যু ঝুঁকিতে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার। প্রশাসনের আলটিমেটাম, বার বার উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়েও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নগরীর ১১টি পাহাড় থেকে মৃত্যুঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরে যেতে সময় বেধে দেওয়া হলেও কেউ তাদের আবাসস্থল ছেড়ে যায়নি। এই অবস্থায় আগামী রোববার থেকে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

শুরু হয়েছে বর্ষ মৌসুম। প্রতি বছর এই মৌসুমেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বার বার প্রাণহানি এবং প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও পাহাড়ের পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের সরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে সহস্রাধিক পরিবার মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ এলাকা সরে যেতে বলা হলেও কেউই শুনছেন না প্রশাসনের সতর্কবাণী।

সম্প্রতি প্রকাশিত দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট পারফরমেন্সের (সিডিএমপি) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শুধু বর্ষণের কারণে নয়, ভূমিকম্পেও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ব্যাপক জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয় চট্টগ্রাম মহানগর এবং সংলগ্ন এলাকার পাহাড়গুলোর মধ্যে ১৩টি পাহাড় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়গুলো হচ্ছে: বাটালি হিল, টাইগারপাস ইন্ট্রাকো সংলগ্ন পাহাড়, বিআইটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়, ইস্পাহানি পাহাড়, শেরশাহ মীর পাহাড়, একে খান পাহাড়, টাইগারপাস জেলা পরিষদ পাহাড়, লেকসিটি আবাসিক এলাকার সংলগ্ন পাহাড়, সিডিএ অ্যাভিনিউ পাহাড়, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট পাহাড়, চটেশ্বরী জেমস ফিনলে পাহাড়, কবইল্যাধাম পাহাড় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়। এসব পাহাড়ে বালির পরিমাণ বেশি। বৃষ্টির সময় বালিতে পানি ঢুকে নরম হওয়ার পর ধসে পড়ে। বৃষ্টি ছাড়া ভূমিকম্পেও যে কোনো মুহূর্তে পাহাড়গুলো ধসে পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর মধ্যে প্রতিটি পাহাড়ে গড়ে দেড় শ থেকে দু শ পরিবার বসবাস করে থাকে। পাহাড়ের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। এ সব স্থাপনায় রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ।

দুর্যোগ দেখা দিলে এসব পাহাড়ে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা অসম্ভব হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে পাহাড় ধসে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার শুরু করা যায় না বলে প্রাণহানি বেশি ঘটে।

পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল রক্ষা করার তেমন সুযোগ না থাকায় চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ধসে প্রাণহানির পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

গত ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে কেড়ে নেয় প্রায় দেড় শ নিরীহ প্রাণ। এরপর বিভিন্ন মহলের নানা তৎপরতা শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সুফল মেলেনি। পাহাড় ধস প্রতিরোধ কমিটি নানা জরিপ চালিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও বাম্দবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের জুন মামে বাটালি হিলে আবার পাহাড় ধসে ১৭ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রতিবছর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে বিভিন্ন সিদ্ধাস্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় নগরীর ১১টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় এক হাজার পরিবারকেও চিহ্নিত করা হয়।

বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সরে না যাওয়ায় সেখান বসবাসকারী পরিবারগুলোর অবৈধ বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যেতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল।

এই সময়ের মধ্যে তারা সরে না যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান।

চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, ‘পাহাড়ে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পাহাড় ধস ঠেকাতে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি সচেতনামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত