টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কুমিরা ইউনিয়ন খাসমহল: টাকা দিলে সব হয়, নয়তো ঘোরপাক খায়

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুন্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১১ জুন (সিটিজি টাইমস):: চরম র্দুনীতি ও জালিয়াতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন খাস মহল। এ অফিসে দালালরাই সর্বেসর্বা। তাই অসংখ্য দালালের আনাগোনা থাকে খাস মহলের বারান্দায়। আর এসব দালালদের সাথে তহশিলদারদের রয়েছে গলায় গলায় ভাব। ফলে যে কোনো কাজ ও নথিপত্র পেতে হলে দালারাই একমাত্র ভরসা। এ সুযোগে টেবিলে হয় হাজার টাকার লেনদেন। একটি খতিয়ানের খসড়া নিতে হলেও মধ্যস্ততাকারী দালাল ছাড়া উপায় নেই। এভাবে কুমিরা খাসমহলে অনিয়ম ও দুণীতিতে পড়ে টাকা-পয়সার অভাবে পূর্বপুরুষের ভিটামাটি হতে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষরা।

জানাযায়, কুমিরা ইউনিয়ন খাস মহল হতে দাগ-খতিয়ান সংগ্রহে লাগে ৫০-৫০০ টাকা। নামজারী খতিয়ানের তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য তহশিলদার পায় ৫’শ হতে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া বড় ধরনের সমস্যা সমাধানে তহশিলদারদের ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা দিলে পরিস্কার হয়ে যায় প্রতিবেদনের জটিলতা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরানো একটি পাকা ঘরে খাজনা আদায়ের কাজ ১জন তহশিলদার ও ৩ জন সহকারী। তহশিলদার ও সহকারীদের কাছে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে। সে সুবাদে সেবার নামে গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ভাবে মোটা অংক হাতিয়ে নেয় দালাল, পিয়ন ও তহশিলদাররা। র্দুনীর্তি করতে ও ঘুষ আদায়ে প্রত্যেক তহশিলদারদের রয়েছে ব্যাক্তিগত সহকারী। সরকারী অফিসে এ ধরনের অবৈধ লোক রেখে অবৈধ কাজ হাসিল করে চলছে তহশিলদাররা। দালাল ও ভেন্টার ছাড়া কোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব হয় না এই খাস মহলে। তহশিলদারদের হতে কাজ করিয়ে নিতে গ্রাহকদের থেকে মোটা অংক আদায় করায় মধ্যস্ততাকারী ও দালালদের একমাত্র কাজ। যে টাকা বেশী দেয় তার কাজ সমাধান হয় সবার আগে। আর যে টাকা দিতে পারে না তাকে ফেরত যেতে হয় বা দালাল ধরে কাজ করাতে হয়েছে। তাছাড়া নামজারীর প্রতিবেদন পেশে তহশিলদারের সাথে লেনদেন না হলে ১৫ দিনের প্রতিবেদন তথ্য ২ মাসেও পৌছে না ভূমি অফিসে।

ভোক্তভোগী মো.মাসুদ উদ্দিন বলেন, দালাল বা ভেন্টার ছাড়া নামজারী করতে দেয়ায় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামজারী ফাইলে সঠিক প্রতিবেদন পেশ করে নাই তহশিলদার। অথচ ২০১২ সালে একই নামজারীর প্রস্তাব দেয়ার পরও ভূমি অফিস ফাইলটি অনুমোদ না দিয়ে হারিয়ে পেলে ।’ একইভাবে ২শতক জায়গার নামজারীতে প্রায় এক বছর ধরে তহশিলদারের দরজায় খোরপাক খাচ্ছে বলে জানান ভোক্তভোগী এক জায়গার মালিক।

কুমিরা ইউনিয়ন খাস মহলের তহশিলদার বড় বাবু বিল্পব চৌধুরী বলেন, সুবিধাভোগীরা সুবিধা আদায় করতে না পারায় আমার নামে নানান কথা রটিয়ে চলে। তবে আমিও সহজে কাউকে ছাড় দেয়ার লোক না।

এদিকে কুমিরা খাস মহলে জায়গা জমি সংক্রন্ত সব কাজ আসে ভেন্টরদের মাধ্যমে। যার ফলে ২৫০ টাকার নামজারীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ভেন্টারা নেয় ৪/৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ভেন্টার বলেন , খাসমহলের তহশিলদারের পেটে টাকা না ঢুকলে ফাইলটি যে টেবিলে জমা হবে সে টেবিলে পড়ে থাকবে।’ এ ধরনের বহু অভিযোগ রয়েছে কুমিরা খাস মহলের বিরুদ্ধে। এরপরও কোনো তদারকি না থাকায় তহশিলদার ধরাকে স্বরাজ্ঞান করে চলছে। আর মানুষও ঝামেলা হতে বাচতে মূখ বুঝে অন্যায়কে ন্যায় মেনে চালিয়ে যাচ্ছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুব আলম জানান, দালাল ছাড়া তহশিলদার কাজ করে না এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া যে কোনো সমস্যায় সরাসরি যোগাযোগ করা হলে র্নিদিষ্ট ফি দিয়ে জায়গা-জমির সকল কাজ সহজে করে নিতে পারবে।

মতামত