টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে হচ্ছে ওভার ব্রিজ

বড়তাকিয়া, মিঠাছড়া, ঠাকুরদিঘী, হাদিফকিরহাট বাজারেও প্রয়োজন ওভার ব্রিজ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি

Mirsarai-Dhaka-Ctg-Highway-চট্টগ্রাম, ১০ জুন (সিটিজি টাইমস)::  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশে ধুমঘাট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার অংশে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে স্থাপন করা হচ্ছে ৪টি অভার ব্রিজ। বড়দারোগারহাট বাজার, নিজামপুর কলেজ, মিরসরাই পৌর সদর, বারইয়ারহাট পৌর বাজারে স্থাপন করা হবে এই ওভার ব্রিজগুলো। ইতোমধ্যে বারইয়ারহাট পৌর বাজারেরটি স্থাপনের কাজ চলছে। এই চারটি বাজারে জন সমাগম বেশী হওয়া এবং মানুষের মহাসড়ক পারাপার বেশী প্রয়োজনীয় হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়ক চার লেইন প্রকল্পের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বসানো হবে অভার ব্রিজগুলো। তবে উপজেলার অন্যান্য বাজার যেমন বড়তাকিয়া বাজার, মিঠাছরা বাজার, ঠাকুর দিঘী বাজার, হাদি ফকিরহাট বাজারে মানুষের চলাচল বেশী থাকলেও এই বাজারগুলোতে ওভার ব্রিজ বসানোর কোন চিন্তাধারা নেই ফোর লেইন কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়ায় মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে বাজার ছাড়াও রয়েছে খৈয়াছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মিঠাছরা বাজারেও একই ভাবে রয়েছে মান্দারবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিঠাছরা মাদ্রাসা, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাড়ি মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে। ক্লাশ করার জন্য এদেরকে প্রতিদিন ফোর লেইন পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘীতে রঘুনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মহসড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। বিদ্যালয় পূর্ব পাশে হলেও এই বিদ্যালয়ের বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীর বাড়ি মহাসড়কের পশ্চিম পাশে।

এছাড়াও মহাসড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প। যেখানে ইতোমধ্যে পর্যটনের জন্য রিসোর্ট সহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দুই ঈদ ছাড়াও বৈশাখী অনুষ্ঠান, ফিকনিক করার জন্য মহামায়ায় মিরসরাইয়ের মানুষ ছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ আসে। মহসড়কের পূর্ব পার্শ্বে রয়েছে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ঠাকুরদিঘী কেন্দ্রেীয় জামে মসজিদ। নামায আদার করার জন্য মুসল্লিদেরকে ঠাকুর দিঘী বাজার থেকে মহাসড়ক পার হয়ে মসজিদে যেতে হয়। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদি ফকিরহাট বাজারও মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত। বাজার ছাড়াও রয়েছে মির্জাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাবাজার দাখিল মাদরাসা, নিজামপুর মুসলিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এখানেও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হতে হয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেইন চালু হয়ে যাওয়াতে ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী ও বয়স্ক মানুষদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হয় প্রতিনিয়ত। মহাসড়কে গাড়ির চলাচল করে প্রচুর গতিতে এতে করে প্রায় সময় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ওভারব্রিজ ছাড়াও মহাসড়কে গাড়ি চলাচলের জন্য কোন সাংকেতিক চি‎হ্ন কিংবা নির্দেশিকা ও ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং মিঠাছরা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল্লাহ দিদার বলেন, উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে মিঠাছরা বাজার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত মিঠাছরা বাজার, মান্দারবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিঠাছরা মাদ্রাসা সহ ব্যাংক ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর পর অভিভাবকদেরক সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। ওভার ব্রিজ না থাকাতে শিক্ষার্থী সহ জনসাধারণকে মহাসড়ক ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। ঝুঁকি মুক্ত ভাবে মহাসড়ক পার হওয়ার জন্য মিঠাছরা বাজারের দক্ষিণ পাশে ওভার ব্রিজ স্থাপন করা প্রয়োজন।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, অবস্থানগত দিক থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ঠাকুরদিঘী বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠাকুরদিঘী বাজার, রঘুনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহামায়া সেচ প্রকল্প, জামে মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদের কারণে জনসাধারণকে নিয়মিত মহাসড়ক পারাপার হতে হয়। তাই ঠাকুর দিঘী বাজারে একটি অভার ব্রিজ প্রয়োজন। আমি ফোর লেইন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাব যাতে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরদিঘী বাজারেও একটি ওভারব্রিজ স্থাপন করা হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেইন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ জনবহুল এলাকাগুলো চি‎হ্নিত করে ইতোমধ্যে ওভার ব্রিজ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ধুমঘাট ব্রিজ থেকে বড় দারোগারহাট বাজার পর্যন্ত প্রাথমিক ভাবে ৪টি অভারব্রিজ বসানো হবে। অন্যান্য বাজার কিংবা জনবহুল এলাকায় যদি অভার ব্রিজ প্রয়োজন হয় তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা এলাকাবাসী থেকে ফোর লেইন কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্থ করতে হবে। যদি চাহিদা থাকে তাহলে দ্রুত ওভার ব্রিজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া মহাসড়কের ইউটার্নে (ক্রসিং) সঠিকভাবে গাড়ী চলাচলের জন্য সাংকেতিক চি‎হ্ন লাগানোর কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত